২০ বছর ধরে পরিত্যক্ত সেরিকালচার কেন্দ্র, দুষ্কৃতীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত সরকারি সম্পত্তি
তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ, ২৬ জুন:উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ ব্লকের ভবানীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ফতেপুর-হলদিবাড়ি এলাকার একসময়ের সরকারি সেরিকালচার কেন্দ্র আজ পরিণত হয়েছে পরিত্যক্ত ও ভুতুড়ে বাড়িতে। দীর্ঘ দুই দশক ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা এই সরকারি ভবন বর্তমানে দুষ্কৃতীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।প্রায় দুই বিঘা জমির উপর নির্মিত এই সেরিকালচার অফিসটি চালু হওয়ার মাত্র দু’বছরের মধ্যেই কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
তারপর থেকেই ভবনটি অযত্নে পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত কয়েক দশকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবনটির সংস্কার বা পুনর্ব্যবহারের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে একের পর এক দরজা-জানালা খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, নষ্ট হয়েছে সরকারি সম্পত্তি।এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষক প্রভাস সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটি সরকারি ভবন কীভাবে চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে গেল, তার প্রত্যক্ষ সাক্ষী আমি। প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই। সরকারি সম্পত্তি রক্ষার ক্ষেত্রে এই উদাসীনতা অত্যন্ত দুঃখজনক।”স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভবনটি সংস্কার করে এখানে কোনও সরকারি দপ্তর চালু করা হলে এলাকার মানুষের উপকার হবে। তাঁদের বক্তব্য, একসময় সেরিকালচার অফিস চালু থাকলেও সেটি তুলে নেওয়ার পর আর কোনও বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবা হয়নি।কংগ্রেস নেতা প্রভাস সরকার জানান, “এই জমিটি একসময় মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেরিকালচার কর্তৃপক্ষ জমি দিতে রাজি হয়নি। অথচ আজ সেই সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের মুখে। করদাতাদের টাকায় তৈরি ভবনের এই পরিণতি মেনে নেওয়া যায় না।”স্থানীয়দের অভিযোগ, অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় ভবনটি এখন অসামাজিক কার্যকলাপের আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ ওই এলাকায় যেতে ভয় পান বলেও দাবি তাঁদের।এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক উৎপল মহারাজের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, দ্রুত পরিত্যক্ত সেরিকালচার ভবনের সংস্কার করে সেখানে কোনও সরকারি দপ্তর, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করা হোক। তাঁদের মতে, এতে যেমন সরকারি সম্পত্তি রক্ষা পাবে, তেমনি এলাকার সার্বিক উন্নয়নেও নতুন দিগন্ত খুলবে।

