আসামের বিহু নাচে মাতলো কালিয়াগঞ্জ ,অভিনব শোভাযাত্রায় দেবীকে বিদায় জানিয়ে সেরা ‘বৈশালী ক্লাব’

 

তন্ময় চক্রবর্তী গতকাল ছিল বিজয়া দশমী। বছরের মতো উমার ফেরার পালা, বাতাসে বিষাদের সুর। তবে বিষাদের মাঝেই জগজ্জননী মাকে এক বছরের জন্য বিদায় জানাতে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের বিভিন্ন পুজো মণ্ডপগুলিতে দেখা গেল উৎসবের এক নতুন জোয়ার। বিভিন্ন পুজো কমিটির অভিনব সব পরিকল্পনা ও দৃষ্টিনন্দিত শোভাযাত্রা শহরবাসীকে এক ভিন্ন মেজাজে ভরিয়ে তোলে।প্রতিটি পুজো উদ্যোক্তাই নিজেদের মতো করে ঢাকের তাল, আলোকসজ্জা এবং নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রায় নতুনত্ব আনার নিরন্তর চেষ্টা করেছিলেন।

 

কিন্তু এই সমস্ত আয়োজনকে ছাপিয়ে কালিয়াগঞ্জের বিসর্জন প্রক্রিয়ায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো ঐতিহ্যবাহী ‘বৈশালী ক্লাব’। কালিয়াগঞ্জবাসীর হৃদয় জয় করে নিয়ে এই বছরের বিসর্জন শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণ হয়ে উঠলো তারাই।বৈশালী ক্লাবের পুজো মানেই নতুন কিছু চমক, আর বিজয়া দশমীর শোভাযাত্রাতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলো তারা।

 

এ বছর দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে তারা আয়োজন করেছিল উত্তর-পূর্ব ভারতের সুপরিচিত ‘আসামের বিহু নাচ’। আসাম থেকে আগত শিল্পীদের নিখুঁত ও প্রাণবন্ত বিহু পরিবেশনা এবং ঢাকের বোলের যুগলবন্দি এক অসাধারণ মায়াবী পরিবেশ তৈরি করে।

 

শোভাযাত্রাটি যখন শহরের রাজপথ পরিক্রমা করছিল, তখন রাস্তার দু’পাশে হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় জমান সেই অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করার জন্য। ঐতিহ্যবাহী অসমীয়া পোশাক, ছন্দময় নাচ আর আনন্দমুখর আবহ মুহূর্তের মধ্যেই কাড়ল উপস্থিত সকল মানুষের মন।কালিয়াগঞ্জের অন্য সব পুজো কমিটিগুলোর মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার আবহ থাকলেও, বৈশালী ক্লাবের এই আসামের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে শোভাযাত্রায় তুলে ধরার উদ্যোগটি ছিল একেবারেই স্বতন্ত্র। দর্শনার্থীদের মতে, সাধারণ ঢাক বা সাউন্ড সিস্টেমের গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে এই ধরনের এক বর্ণময় ও সাংস্কৃতিক শোভাযাত্রা কালিয়াগঞ্জের দশমীর আমেজকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মাকে চোখের জলে বিদায় জানানোর ক্ষণে বিষাদ ভুলে বৈশালী ক্লাবের এই অভিনব প্রয়াস কালিয়াগঞ্জবাসীর মনে দীর্ঘকাল অমলিন হয়ে থাকবে।