April 21, 2024

মালগাওয়ের কার্পেট শিল্প লকডাউনের সময় থেকে বন্ধ থাকার ফলে দুইশতাধিক কার্পেট শিল্পী কর্মহীন –

1 min read

মালগাওয়ের কার্পেট শিল্প লকডাউনের সময় থেকে বন্ধ থাকার ফলে দুইশতাধিক কার্পেট শিল্পী কর্মহীন

তপন চক্রবর্তী,কালিয়াগঞ্জ ৪ জুলাই:উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ ব্লকের ঐতিহ্যবাহী মালগাও এর কার্পেট শিল্প বন্ধ থাকার ফলে বিগত ২০১৯সাল থেকে কার্পেট শিল্পীরা কর্মহীন।কাজের সমস্ত রকম সুযোগ সুবিধা থাকা সত্বেও দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে লকডাউনের দোহাই দিয়ে এভাবে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে কেন তার কোন কারণ কার্পেট শিল্পীরা দেখতে পাচ্ছেনা।রবিবার কালিয়াগঞ্জ শহর থেকে ১৬কিমি দূরে অবস্থিত মালগাও হ্যান্ডলুম কো অপারেটিভ কার্পেট ক্লাস্টার সোসাইটির কার্পেট শিল্পী কাইফি আজম বলেন কার্পেট ক্লাস্টার সোসাইটি থেকে কার্পেটের কাজ শিখে এখানে এসে আর্থিক দিক থেকে সাফল্য পেয়েছিল। কিন্তু লকডাউন থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের কার্পেট সোসাইটি বন্ধ থাকার ফলে আমি কাজ হারিয়েছি।

 

আমি প্রতিদিন কমের পক্ষে আড়াইশো টাকা এবং ঊর্ধ্বে ৫০০ টাকা আয় করতাম। সেই আয় এখন বন্ধ হয় গিয়েছে।লক ডাউন উঠে যাবার পর সব কিছু খুলে গেলেও আমাদের কার্পেট শিল্পের প্রতিষ্ঠানটি এখনো বন্ধ হয় আছে।তার দাবিmm রাজ্য সরকারের হ্যান্ডলুম দপ্তর অবিলম্বে কার্পেট শিল্পে কাজ শুরু করার ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।মালগাও কার্পেটশিল্পের অপর শিল্পী সাকলাই নবী জানান দীর্ঘদিন ধরে এই কার্পেট শিল্পের সাথে যুক্ত থেকে নিজে আয় করে পরিবারের মুখে কিছুটা হলেও হাসি ফুটিয়ে ছিলাম।কিন্তু বিগত দুই বছর কাজ হারিয়ে প্রচন্ড সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছে। মালগাও গ্রামের উচ্চ শিক্ষিত কার্পেট শিল্পী জাভেদ আসিস এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন তাদের গ্রামের এই কার্পেট শিল্পের উপর এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা বিশেষ ভাবে নির্ভরশীল।তারা এই শিল্পে কাজ করে কেও প্রতিদিন দুশো টাকা কেউবা তার বেশি অর্থ রোজগার করে পরিবার পরিজনদের নিয়ে কোন ভাবে দিন অতিবাহিত করত।

 

কিন্তূ গত দুই বছরের বেশি দিন হয় অকারণে তাদের কার্পেট শিল্পের ক্লাস্টার সোসাইটি বন্ধ করে রাখা হয়ছে।এর ফলে মালগাও এলাকার দক্ষ কার্পেট শিল্পীরা কাজ হারিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে বলে জাভেদ আসিস জানান।তিনি এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন বর্তমানে তাদের কার্পেট সমিতিতে চার রকমের কার্পেট তৈরি হয়। টপটেড,নটেড, তিনপত্তি এবং খাড্ডি। খাদ্দি কার্পেট সাধারনত পাট দিয়ে বানানো হয়।এটা ততের শাড়ি যেমন বোনা হয় ঠিক তেমন ভাবেই এটি বানানো হয়।জাভেদ আসিস বলেন বর্তমানে কম দাম অথচ দেখতে ভালো এই ধরনের কার্পেট যেমন বানানো হয়। তেমনি বেশি দামের যে সমস্ত কার্পেট বানানো হয় সেগুলি কোন কোনটা তিরিশ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত এক একটি কার্পেট ভালো থাকে।মালগাও কার্পেট গ্রামের বাসিন্দা জসমিনা বেগম বলেন তিনি দশ বছর ধরে কার্পেট বুনিয়ে আর্থিক স্বয়ম্বর হয়েছে। কিন্তু বিগত আড়াই বছর ধরে কার্পেট বুনানোর কাজ লক ডাউনের জন্য বন্ধ করে রাখা হয়েছে।আর কতদিন এভাবে তাদের কার্পেট সমিতির কাজ বন্ধ করে রাখা হবে?তিনি বলেন অবিলম্বে মালগাও কার্পেট ক্লাস্টার সোসাইটির কাজ শুরু করে তাদের আবার কাজ ফিরিয়ে দেওয়া হোক বলে জসমিনা বেগম দাবি করেন।মালগাও হ্যান্ডলুম কো – অপারেটিভ কার্পেট ক্লাস্টার সোসাইটির সম্পাদক তথা কর্নধার আবু তাহের বলেন তিনি চেষ্টা করছেন তাদের কার্পেট সমিতি আবার পুরো মাত্রায় কাজ শুরু করুক।কারন দীর্ঘ দুই বছরের বেশি দিন হয় কার্পেট তৈরির কাজ লক ডাউনের কারনে বন্ধ হয়ে আছে। এর ফলে বহু বেকার যুবকের সাথে স্বয়ংবর গুষ্টির মহিলারা কাজ হারিয়ে বসে থাকায় প্রচন্ড সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। এ ব্যাপারে রাজ্য সরকারের হ্যান্ডলুম দপ্তরের আধিকারিক এর সাথে যোগাযোগ করা হলো তাকে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *