৮৫ বছরে রাধিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয়! প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বসলো চাঁদের হাট, উন্নয়নের আশ্বাসে উচ্ছ্বসিত পড়ুয়া-শিক্ষকরা

তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ, ২৯ আগস্ট:৮৫ বছরে পা দিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী উত্তর দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী রাধিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের ৮৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শনিবার দিনভর নানা অনুষ্ঠানে যেন বসেছিল চাঁদের হাট।

প্রাক্তন ও বর্তমান পড়ুয়া, শিক্ষক-শিক্ষিকা, জনপ্রতিনিধি এবং বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে উৎসবের আবহে মুখর হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে রাজ্যের মন্ত্রী সংসদ ও বিধায়করা বিদ্যালয়ে প্রবেশ করলে তাদের পুষ্পবৃষ্টির সাথে শঙ্খ ধ্বনির মাধ্যমে ছাত্রীরা বরণ করে।বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা রায়গঞ্জের বিধায়ক কৌশিক চৌধুরী। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে শিক্ষাক্ষেত্রে নানা অনিয়ম হয়েছে। তাঁর কথায়, নতুন সরকারের লক্ষ্য হল শিক্ষার পরিবেশকে আরও উন্নত করা এবং বিদ্যালয়গুলিকে এমনভাবে গড়ে তোলা, যাতে সেখান থেকে প্রকৃত মানুষ তৈরি হয়। রাধিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকার তৎপর বলেও তিনি আশ্বাস দেন।অনুষ্ঠানে রাধিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা—নিজস্ব মঞ্চ না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল। তিনি জানান, সাংসদ তহবিল থেকে বিদ্যালয়ে একটি মঞ্চ নির্মাণের জন্য অর্থ মঞ্জুর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সাংসদের এই ঘোষণায় স্বভাবতই খুশি হন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং উপস্থিত অভিভাবকরা।কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক উৎপল মহারাজ বলেন, “শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড।” তাঁর বক্তব্য, বিগত সরকারের সময় শিক্ষাক্ষেত্রে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা সামলে নিতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে শিক্ষার সঙ্গে কোনওরকম আপস করা হবে না। রাধিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের যেকোনও সমস্যা তাঁর নজরে আনলে তা সমাধানের জন্য যথাসাধ্য সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হেমতাবাদের বিধায়ক হরিপদ বর্মন-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিঠুন রায় জানান, ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত রাধিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘদিনের একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সময়ের সঙ্গে বিদ্যালয়ের যে ধরনের সার্বিক উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল, তা এখনও পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। তবে আগামী দিনে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান হবে—এই আশায় তাঁরা বুক বাঁধছেন।বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সকাল থেকেই বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে চলে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গান, নাচ-সহ বিভিন্ন পরিবেশনায় জমে ওঠে অনুষ্ঠান। পাশাপাশি প্রথম থেকে দশম শ্রেণির কৃতী ছাত্রছাত্রীদের পুরস্কৃত করা হয়। বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদেরও সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।৮৫ বছরের গৌরবময় পথচলার স্মৃতি, বর্তমানের উৎসব এবং আগামী দিনের উন্নয়নের প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে রাধিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান হয়ে উঠল স্মরণীয় এক দিন।