সুরের ‘বিবর্তন’ বনাম রাজনীতির ‘পরিবর্তন’: কালিয়াগঞ্জে বাবুলের গানেই তৃণমূলকে নিশানা বিজেপির
তন্ময় চক্রবর্তী :- রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু নেই, আর সেই ধ্রুব সত্যেরই এক অদ্ভুত প্রতিফলন ঘটল উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের মাটিতে। রায়গঞ্জ ও হেমতাবাদ হয়ে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’র রথ যখন কালিয়াগঞ্জের প্রবেশদ্বারে, তখন শহরজুড়ে এক অনন্য ‘মিউজিক্যাল প্যারাডক্স’ বা সুরের টানাপোড়েন চাক্ষুষ করলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শুক্রবার সকাল থেকেই কালিয়াগঞ্জের টাওয়ার কোম্পানি মোড়ে সাজ সাজ রব। বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার রথকে স্বাগত জানাতে তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। গেরুয়া পতাকায় মুড়ে ফেলা হয়েছে চারপাশ। কর্মীরা যখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে মাইকে বেজে উঠল সেই চেনা সুর— “আর না, আর না, এই তৃণমূল আর না!”বিদ্রুপের বিষয় এটাই যে, যে কণ্ঠস্বর আজ কালিয়াগঞ্জের মোড়ে মোড়ে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ছে, সেই কণ্ঠটি আর কারও নয়— একসময়ের দাপুটে বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র। যিনি বর্তমানে দলবদল করে ঘাসফুল শিবিরের অন্যতম সেনাপতি এবং রাজ্যসভার প্রার্থী।বাংলার রাজনীতিতে দলবদল এখন জলভাতের মতো হয়ে দাঁড়ালেও, শিল্পীর সৃষ্টি যে সহজে দলবদল করে না, তার সাক্ষী থাকল কালিয়াগঞ্জ। একদা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকাকালীন বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূলের ‘দুর্নীতি’ ও ‘অপশাসনের’ বিরুদ্ধে যে গানগুলো গেয়েছিলেন, আজ সেই গানগুলোই বিজেপি কর্মীদের উন্মাদনার জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে। অনেক কর্মীকে সেই গানের তালে নাচতেও দেখা যায়।পথচারীদের কাছে বিষয়টি বেশ কৌতূহল জাগিয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা মুচকি হেসে বললেন,”গান তো সুরের, তার কোনো দল হয় না। কিন্তু রাজনীতির লড়াইয়ে সেই সুর যখন শিল্পী যে দলে আছেন সেই দলকেই বিঁধতে সাহায্য করে, তখন বিষয়টা বেশ উপভোগ্য হয়ে ওঠে।”কালিয়াগঞ্জের এই চিত্র আরও একবার প্রমাণ করল যে, রাজনীতিতে ব্যক্তিগত আদর্শ বদলালেও কালজয়ী স্লোগান বা গান দলের সম্পদ হয়েই থেকে যায়। বাবুল সুপ্রিয় সশরীরে আজ তৃণমূলের শিবিরে থাকলেও, তাঁর পুরনো কণ্ঠস্বর যেন পরোক্ষভাবে তাঁর বর্তমান দলের বিরুদ্ধেই সরব হলো কালিয়াগঞ্জের রাস্তায়।পরিবর্তন যাত্রার এই রথ পরিক্রমা এবং বাবুলের গানের এই ‘অদ্ভূতমেলবন্ধন’ আগামী দিনে ভোটের ময়দানে সাধারণ মানুষের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

