শ্রদ্ধা ও স্মরণে ২২শে শ্রাবণ: রায়গঞ্জ গার্লস প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পালিত হলো রবীন্দ্র তিরোধান দিবস

নিজস্ব সংবাদদাতা, রায়গঞ্জ:বাইশে শ্রাবণ—বাঙালি সংস্কৃতি ও মননে পরম বেদনা, শ্রদ্ধা এবং আত্মোপলব্ধির এক পবিত্র দিন। এই দিনেই কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মহাকালের নিয়মে তাঁর দৈহিক প্রস্থান ঘটলেও, তাঁর কবিতা, গান, সাহিত্য এবং চিন্তাধারা আজও বাঙালির প্রতি মুহূর্তের সুখ-দুঃখ ও জীবনসংগ্রামের পরম আশ্রয়স্থল। বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রতিটি বাঙালি যেমন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় কবিগুরুকে স্মরণে মেতে ওঠেন, তেমনই ভাবগম্ভীর পরিবেশের মধ্য দিয়ে রায়গঞ্জ গার্লস প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উদযাপিত হলো রবীন্দ্র তিরোধান দিবস।বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে মাল্যার্পণ ও দীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌরাঙ্গ চৌহান সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা, খুদে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকবৃন্দ।অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন, কবিতা আবৃত্তি ও রবীন্দ্রশ্রুতির মাধ্যমে বিশ্বকবির অমর সৃষ্টিকে ফুটিয়ে তোলে। খুদে পড়ুয়াদের এই স্বতঃস্ফূর্ত ও সুনিপুণ অংশগ্রহণ উপস্থিত সকলকে আবেগপ্লুত করে তোলে।অনুষ্ঠানে তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক গৌরাঙ্গ চৌহান বলেন:“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল বাংলা সাহিত্যের একজন শ্রেষ্ঠ প্রতিভা নন, তিনি আমাদের জাতীয় জীবন ও সংস্কৃতির প্রাণভোমরা। ছোটবেলা থেকেই যদি শিশুদের মনে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যিক চেতনা, মানবিকতা ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার বীজ বুনে দেওয়া যায়, তবেই তারা ভবিষ্যৎ জীবনে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। তাঁর আদর্শ ও চিন্তাভাবনাকে দৈনন্দিন জীবনে লালন করাই হবে তাঁর প্রতি আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি।”সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার নেপথ্যে ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ। শ্রদ্ধা, সুর ও কথামালার এই সাংস্কৃতিক নিবেদন উপস্থিত সকলের ভূয়সী প্রশংসা লাভ করে।