তিরঙ্গার রঙে সেজে উঠল কালিয়াগঞ্জ! সাইকেলে শহর পরিক্রমায় রায়গঞ্জের সাংসদ, বর্ণাঢ্য ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ যাত্রায় মাতল শহর
তন্ময় চক্রবর্তী কালিয়াগঞ্জ: স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষপূর্তিকে সামনে রেখে দেশাত্মবোধের আবেগে রবিবার সকাল থেকেই তিরঙ্গার রঙে সেজে উঠল উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ শহর।

ভারত সরকারের উদ্যোগে এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিচালনায়, কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার সহযোগিতায় আয়োজিত হলো বর্ণাঢ্য ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি।
সাইকেল র্যালির মাধ্যমে শহর পরিক্রমা করে এই বিশেষ তিরঙ্গা যাত্রা।এদিনের কর্মসূচিতে বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল, কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক উৎপল ব্রহ্মচারী, কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার কমিশনাররা, পৌরসভার বিভিন্ন বিভাগের কর্মচারী এবং শহরের সাধারণ মানুষ। সকাল থেকেই জাতীয় পতাকা হাতে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে এগিয়ে আসেন।এদিনের র্যালিতে অন্যতম আকর্ষণ ছিল রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পালের সাইকেল নিয়ে শহর পরিক্রমা।
হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে সাইকেল চালিয়ে তিনি র্যালিতে অংশ নেন। তাঁর সঙ্গে সাইকেলে ও পায়ে হেঁটে অংশ নেন অন্যান্য জনপ্রতিনিধি, পৌরকর্মী এবং সাধারণ মানুষ।র্যালি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করার সময় রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজন জাতীয় পতাকা নেড়ে ও করতালির মাধ্যমে তিরঙ্গা যাত্রাকে অভিবাদন জানান।
গোটা শহরজুড়ে শোনা যায় দেশাত্মবোধক স্লোগান। জাতীয় পতাকার রঙে পোশাক পরে ছোট ছোট কচিকাঁচাদেরও এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়। শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এদিনের অনুষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল বলেন, “তিরঙ্গা শুধু একটি জাতীয় পতাকা নয়, এটি আমাদের গর্ব, আত্মমর্যাদা এবং দেশের প্রতি ভালোবাসার প্রতীক। স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রতিটি মানুষের মধ্যে দেশপ্রেমের চেতনা আরও শক্তিশালী করাই আমাদের লক্ষ্য।”তিনি আরও বলেন, “আজ কালিয়াগঞ্জের মানুষ যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই তিরঙ্গা যাত্রায় অংশ নিয়েছেন, তাতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। বিশেষ করে ছোট ছোট শিশুদের জাতীয় পতাকার রঙের পোশাক পরে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী প্রজন্মের মধ্যে দেশের প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার চেতনা তৈরি করতে এই ধরনের কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”সাংসদের কথায়, “দেশের স্বাধীনতা বহু মানুষের আত্মত্যাগের ফল। সেই ইতিহাসকে মনে রেখে আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব দেশকে আরও শক্তিশালী ও উন্নত করে তোলা। তিরঙ্গার মর্যাদা রক্ষা করা এবং দেশের ঐক্য ও সংহতিকে আরও সুদৃঢ় করা আমাদের সকলের কর্তব্য।”
এদিনের কর্মসূচিকে ঘিরে কালিয়াগঞ্জ শহরে কার্যত উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন রাস্তা ও মোড়ে জাতীয় পতাকা হাতে মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পৌরসভার কর্মচারী থেকে সাধারণ মানুষ—সকলের অংশগ্রহণে বর্ণময় হয়ে ওঠে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি।দেশের স্বাধীনতার গৌরব, জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেমের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বর্ণাঢ্য তিরঙ্গা যাত্রা বলে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
