শিক্ষার নতুন দিগন্তের সূচনা! লোহাতারা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় এবার মডেল স্কুল, উদ্বোধনে বিধায়ক উৎপল মহারাজ—উৎসাহে উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী

 তন্ময় চক্রবর্তী কালিয়াগঞ্জ, ২৭ জুন: উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ ব্লকের লোহাতারা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মডেল স্কুল হিসেবে যাত্রা শুরু করল। শনিবার এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই মডেল স্কুলের শুভ উদ্বোধন করেন কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক উৎপল মহারাজ। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে সকাল থেকেই বিদ্যালয় চত্বরে ভিড় জমান এলাকার অসংখ্য অভিভাবক, ছাত্র-ছাত্রী এবং সাধারণ মানুষ।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কালিয়াগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হিরণ্ময় সরকার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিক, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বহু গ্রামবাসী। বিদ্যালয়ের নতুন রূপ দেখে খুশির আবহ ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।অনুষ্ঠানের সূচনায় অতিথিদের ফুল ও উত্তরীয় দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। পরে ফিতা কেটে এবং ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে মডেল স্কুলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিধায়ক উৎপল মহারাজ। এরপর তিনি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরিকাঠামো ঘুরে দেখেন এবং ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন।বিধায়ক তাঁর বক্তব্যে বলেন, “একটি উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে উন্নত শিক্ষার কোনও বিকল্প নেই। এই মডেল স্কুল শুধুমাত্র একটি বিদ্যালয় নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আধুনিক ও মানসম্পন্ন শিক্ষার মাধ্যমে গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এখানকার পড়ুয়ারা যাতে উন্নত পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।“কালিয়াগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হিরণ্ময় সরকার বলেন, “গ্রামীণ এলাকার শিশুদের শহরের মতো উন্নত শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। এই বিদ্যালয় আগামী দিনে এলাকার অন্যান্য স্কুলের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে।“বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মডেল স্কুল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, উন্নত শিক্ষার পরিবেশ, পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস, শিশু-বান্ধব অবকাঠামো এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে এই বিদ্যালয়কে আরও আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।মডেল স্কুলের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে দিনভর ছিল উৎসবের আবহ। ছাত্র-ছাত্রীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অভিভাবকদের উপস্থিতি এবং গ্রামবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে মুখর। বহু মানুষের মতে, লোহাতারা গ্রামের জন্য এটি এক স্মরণীয় দিন, যা আগামী দিনে এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।