রায়গঞ্জ থেকে ইসলামপুর: গণনার অপেক্ষায় উত্তর দিনাজপুর, জনমতের কাঠগড়ায় আগামীর প্রশাসন
তন্ময় চক্রবর্তী ক্যালেন্ডারের পাতায় ৪ঠা মে। ওইদিন কেবল ভোটযন্ত্রের সিলমোহর ভাঙবে না, নির্ধারিত হবে উত্তর দিনাজপুর জেলার নটি বিধানসভা কেন্দ্রের আগামী পাঁচ বছরের ভাগ্য। একদিকে যখন রাজনৈতিক দলগুলোর অন্দরে উৎকণ্ঠা তুঙ্গে, তখন অন্যপাশে জেলাবাসীর চোখেমুখে ফুটে উঠছে আগামীর প্রত্যাশা। জয়ী হয়ে ক্ষমতায় যেই আসুক না কেন, সাধারণ মানুষের স্পষ্ট বার্তা— “প্রতিশ্রুতি নয়, এবার চাই প্রকৃত উন্নয়ন।”জেলায় কান পাতলে শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন স্তরের মানুষের বিচিত্র সব প্রত্যাশার কথা।
মূলত পাঁচটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে জেলাবাসী নতুন সরকারকে বিচার করতে চান:উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা: উত্তর দিনাজপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন। মুমূর্ষু রোগীদের যাতে মালদা বা শিলিগুড়ি রেফার করতে না হয়, সেই নিশ্চয়তা চাইছেন সাধারণ মানুষ।পরিযায়ী শ্রমিকের তকমা ঝেড়ে ফেলতে চায় এই জেলা। শিক্ষিত যুবকদের দাবি, জেলায় গড়ে উঠুক কৃষিভিত্তিক শিল্প বা ক্ষুদ্র কুটির শিল্প, যাতে ঘরের ছেলেমেয়েদের ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে না হয়।জেলার অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি। ভুট্টা ও আনাজ চাষীদের জন্য হিমঘর নির্মাণ এবং নায্য মূল্যে ফসল বিক্রির স্থায়ী সমাধান চান প্রান্তিক চাষীরা।গ্রামগঞ্জে স্কুল-কলেজের মানোন্নয়ন এবং নারী শিক্ষার প্রসারে আরও জোরালো পদক্ষেপের আশা রাখছেন অভিভাবকরা।দুর্নীতিমুক্ত পঞ্চায়েত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি গ্রামীণ রাস্তার মানোন্নয়ন এবং জেলা সদরের সঙ্গে মহকুমাগুলোর দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করার দাবি উঠছে।কী বলছেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ?”আমরা চাই এমন এক সরকার, যারা কেবল ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দেবে না। রায়গঞ্জের মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা আর যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানই আমাদের প্রধান চাওয়া।”
— অরিন্দম সাহা, স্থানীয় ব্যবসায়ী”কৃষকরা রোদে পুড়ে ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলায়। কিন্তু ফড়িয়াদের দাপটে আমরা নায্য দাম পাই না। যিনিই বিধায়ক হোন, কৃষকদের সমস্যাগুলো সহানুভূতির সাথে দেখতে হবে।”— রহমত আলি, কৃষক, ইসলামপুর”পড়াশোনা শেষ করে আমাদের ভবিষ্যৎ কী? জেলায় যদি কাজের সুযোগ তৈরি না হয়, তবে শিক্ষিত বেকার সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। আমরা চাই স্বচ্ছ নিয়োগ ও শিল্পায়ন।”—

স্নেহা দাস, কলেজ ছাত্রীচৌঠা মে-র ফলাফলের দিকে তাকিয়ে উত্তর দিনাজপুরের নটি কেন্দ্র— চোপড়া, ইসলামপুর, গোয়ালপোখর, চাকুলিয়া, করণদিঘি, ইটাহার, কুশমণ্ডি, রায়গঞ্জ ও হেমতাবাদ। ব্যালট বক্সের রায় যাই হোক না কেন, জেলার সাধারণ মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। জয়ী প্রার্থীদের সামনে যে আগামীর কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, ৪ঠা মে শেষ হাসি কে হাসেন এবং জনগনের এই প্রত্যাশা পূরণ করতে কে কতটা সফল হন

