“রাতের অন্ধকারে পুকুর ভরাট করে বহুতল! রায়গঞ্জে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে থানায় সরব এলাকাবাসী”
দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক পুকুর, ডোবা ও জলাশয় ভরাট করে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রায়গঞ্জ শহরের পশ্চিম বীরনগর এলাকা। সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির উপর ভরসা করে এবার সরাসরি থানার দ্বারস্থ হলেন রায়গঞ্জ শহরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের একদল সাধারণ মানুষ।

অভিযোগ, এলাকার প্রাচীন জলাশয় ‘বিলবাড়ি’কে পরিকল্পিতভাবে রাতের অন্ধকারে ভরাট করে ফেলা হচ্ছে, আর সেই জমির উপর গড়ে উঠছে অবৈধ নির্মাণ।স্থানীয়দের দাবি, বহু বছর ধরে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ জলাধার হিসেবে পরিচিত ছিল ‘বিলবাড়ি’ নামের ওই পুকুরটি। বর্ষার সময় জল সংরক্ষণ, নিকাশি ব্যবস্থা এবং এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এই জলাশয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে রাতের অন্ধকারে ধাপে ধাপে পুকুরটি ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু ওই পুকুরই নয়, আশেপাশের আরও কয়েকটি ডোবা ও ছোট জলাশয় ভরাট করেও বেআইনিভাবে বহুতল নির্মাণ করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, এতদিন নানা কারণে তারা মুখ খুলতে সাহস পাননি। তবে নতুন সরকার গঠনের পর প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের আশায় এবার একজোট হয়ে তাঁরা রায়গঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, জলাশয় ভরাটের ফলে এলাকায় জলনিকাশি ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।এই বিষয়ে ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা তথা বিজেপির শহর সহ–সভাপতি অমিত দাস বলেন, ‘বিলবাড়ি’ নামক পুকুরটি ভরাট হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাঁর দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর মানুষ প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় এগিয়ে আসছেন। সেই কারণেই তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে রায়গঞ্জ থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগপত্রে তনয় দাস ওরফে সানকিং, পঙ্কজ প্রামানিক এবং কল্যাণ সাহার বিরুদ্ধে পুকুর ভরাট ও বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসন দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক এবং প্রাচীন জলাশয় রক্ষায় কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।ঘটনাকে কেন্দ্র করে রায়গঞ্জ শহরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। প্রশ্ন উঠছে—সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি কি সত্যিই জলাশয় দখল ও অবৈধ নির্মাণ রুখতে কার্যকর হবে, নাকি অভিযোগের স্তূপেই আটকে থাকবে তদন্ত? এখন সেদিকেই তাকিয়ে পশ্চিম বীরনগরের সাধারণ মানুষ।

