“‘পুষ্পা’ দাপট, মাটি মাফিয়া আর পুকুর ভরাটের অভিযোগ! কালিয়াগঞ্জে অতীতের অনিয়ম নিয়ে সরব একাংশের সাধারণ মানুষ”

 

উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে পুকুর ভরাট, জলাশয় দখল এবং বেআইনি নির্মাণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় একাংশের বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিগত কয়েক বছরে শহর ও সংলগ্ন এলাকায় একের পর এক পুকুর ও জলাশয় ভরাটের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে পরিবেশগত ভারসাম্য, জলনিকাশি ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন নানা সমস্যার মুখে পড়েছে।

যদিও এই সমস্ত অভিযোগের স্বাধীন বা প্রশাসনিক যাচাই এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় ক্ষমতার বলয়ে কিছু এলাকায় জলাশয় ভরাট এবং নির্মাণ সংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও অনেক ক্ষেত্রে মানুষ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাননি। তাঁদের বক্তব্য, প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও দ্রুত পদক্ষেপের অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ বা অভিযুক্ত রাজনৈতিক পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, কালিয়াগঞ্জ শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ছাড়াও বাঘণ, বটতলী-সহ একাধিক এলাকায় পুকুর ও ছোট জলাশয় ভরাটের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় মহলে আলোচনা রয়েছে। অভিযোগ, কোথাও বহুতল নির্মাণের প্রস্তুতি, আবার কোথাও জমি ভরাট করেই কাজ থেমে রয়েছে। তবে কোন জমি বা নির্মাণ প্রকল্প বেআইনি কি না, তা প্রশাসনিক তদন্তের উপর নির্ভর করছে।রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক ক্ষেত্রে “জিরো টলারেন্স” নীতির কথা ঘোষণা করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। সেই প্রেক্ষিতে কালিয়াগঞ্জের একাংশের বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, জলাশয় ভরাট বা পরিবেশবিরোধী কোনও কাজ হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সাধারণ মানুষের একাংশের দাবি, যেসব এলাকায় রাতারাতি পুকুর বা জলাশয় ভরাটের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলি খতিয়ে দেখতে প্রশাসনিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে পরিবেশ ও ভূমি সংক্রান্ত নথি যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং প্রমাণিত অনিয়ম থাকলে জলাশয়গুলিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও বিবেচনা করা হোক—এমনই দাবি উঠছে স্থানীয়দের মধ্যে।এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—কালিয়াগঞ্জে জলাশয় রক্ষা ও বেআইনি নির্মাণ রুখতে প্রশাসন কতটা সক্রিয় ভূমিকা নেবে? অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আদৌ কি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হবে, নাকি বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে—সেদিকেই এখন নজর স্থানীয় বাসিন্দাদের।