রাত ১১টার পর কালিয়াগঞ্জ শহরে ঔষুধের জন্য হাহাকার—জীবনদায়ী ওষুধ না পেয়ে ক্ষুব্ধ পৌর নাগরিকরা
তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ, উত্তর দিনাজপুর | ১২ জানুয়ারি: উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ শহরে রাত নামলেই শুরু হয় ঔষুধের সংকট। রাত ১১টা বাজলেই শহরের সমস্ত ঔষুধের দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জরুরি চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য জীবনদায়ী ওষুধ সংগ্রহ কার্যত দুঃস্বপ্নে পরিণত হচ্ছে। গভীর রাতে হঠাৎ অসুস্থতা বা জরুরি প্রয়োজনে ওষুধ না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীর পরিবার পরিজনেরা।শহরের নাগরিকদের অভিযোগ, দিনের বেলায় যতই পরিষেবা থাকুক না কেন, রাতে একটি মাত্র ওষুধের দোকানও খোলা না থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বহুদিন ধরেই কালিয়াগঞ্জ শহরের পৌর নাগরিকরা দাবি জানিয়ে আসছেন, রাতে অন্তত একটি ওষুধের দোকান পালাক্রমে সারারাত খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হোক।

এই দাবিকে সামনে রেখে কিছুদিন আগে কালিয়াগঞ্জ ক্রেতা সুরক্ষা সমিতি পৌরসভায় লিখিতভাবে আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু দাবি জানানোর পরেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ।স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন,“রাতে যদি কারও হঠাৎ প্রেসার বেড়ে যায় বা শিশুর জ্বর আসে, তখন কোথায় যাব? শিলিগুড়ি বা রায়গঞ্জ ছাড়া উপায় থাকে না। এটা কি শহরের পক্ষে স্বাভাবিক?”আরেক নাগরিকের অভিযোগ,“কালিয়াগঞ্জ এখন শহর, কিন্তু রাত হলে ওষুধের জন্য গ্রাম থেকেও খারাপ অবস্থা হয়। প্রশাসনের এই বিষয়টা দেখা খুব দরকার।”এ বিষয়ে প্রাক্তন পৌর পিতা রাম নিবাস সাহা উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করলেও বাস্তবে কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব হয়নি বলে জানা গিয়েছে।অন্যদিকে ঔষুধ ব্যবসায়ী সংগঠন বিসিডিএ (BCDA) কালিয়াগঞ্জ জোনের সম্পাদক প্রসেনজিৎ পাল বলেন,“আমরাও চাই কালিয়াগঞ্জ শহরে অন্তত একটি ঔষুধের দোকান সারারাত খোলা থাকুক। বিষয়টি নিয়ে আমরা ভাবনাচিন্তা করছি।”তিনি আরও জানান,“আমাদের সংস্থার ফোন নম্বর-সহ ঔষুধের দোকানের তালিকা কালিয়াগঞ্জ থানা, কালিয়াগঞ্জ পৌরসভা ও বিডিও অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সমস্ত নিয়ম-কানুন মেনেই কীভাবে রাতে একটি ঔষুধের দোকান খোলা রাখা যায়, সে বিষয়ে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।”তবে কবে নাগাদ এই সমস্যা মিটবে, তা নিয়ে এখনও সংশয় কাটেনি। দ্রুত প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ না হলে শহরবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন সাধারণ মানুষ।



