মাদকের অন্ধকার জগৎ থেকে বিপথগামীদের ফিরিয়ে আনতে লড়াই — রায়গঞ্জে আলভা মিত্রের মানবিক উদ্যোগ
তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ, উত্তর দিনাজপুর, ৮ মার্চ বর্তমান সমাজে মাদকের করাল গ্রাস ক্রমশ উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে যুব সমাজের একটি বড় অংশ নেশার অন্ধকার জগতে জড়িয়ে পড়ছে। উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকাতেও যুবক-যুবতীদের পাশাপাশি মহিলা ও ছাত্রীদের মধ্যেও মাদকাসক্তির প্রবণতা বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সমাজের সচেতন মহল।এই অন্ধকার জগত থেকে বিপথগামী মানুষদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন রায়গঞ্জের সমাজকর্মী আলভা মিত্র। নিজের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা এবং প্রয়াত স্বামীর স্বপ্নকে সামনে রেখে তিনি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লড়াইয়ে নেমেছেন।রায়গঞ্জের সুদর্শনপুর এলাকার বাসিন্দা আলভা মিত্র গত তিন বছর ধরে নেশাগ্রস্ত মানুষদের পুনর্বাসনের কাজে নিবিড়ভাবে যুক্ত। দিনরাত এক করে তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন—কিভাবে মাদকাসক্ত যুবক-যুবতীদের নেশার অন্ধকার থেকে বের করে এনে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা যায়।আলভা মিত্র জানান, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে নেশাগ্রস্ত মানুষের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু এক দুর্ঘটনায় স্বামীর অকাল মৃত্যুর পর সেই অসমাপ্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি।

বর্তমানে রায়গঞ্জে থাকা প্রায় ১৫টি নেশামুক্তি কেন্দ্রের সঙ্গে তার স্বামীর কাজের গভীর সম্পর্ক ছিল, যেখানে বহু মাদকাসক্ত ব্যক্তি চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন।স্বামীর স্মৃতিকে সম্মান জানাতে এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই আলভা মিত্র “লাইফলাইন ওয়েলনেস” নামে একটি সরকার স্বীকৃত নেশামুক্তি কেন্দ্র পরিচালনা করছেন।

এই কেন্দ্রের মাধ্যমে তিনি মাদকাসক্ত মানুষদের চিকিৎসা, পরামর্শ এবং মানসিক সহায়তা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।আলভা মিত্রের বিশ্বাস,ভালোবাসা, সহানুভূতি এবং ধৈর্য দিয়েই নেশাগ্রস্ত মানুষদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।তার কথায়,অনেক সময় পরিবারে সন্তানরা ভুল পথে পা বাড়ালে তাদের কঠোরভাবে তিরস্কার করা হয়। কিন্তু তিনি মনে করেন, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে তাদের বোঝালে তারা আবার সঠিক পথে ফিরে আসতে পারে।সমাজের প্রতি নিজের অঙ্গীকারের কথা জানিয়ে আলভা মিত্র বলেন,তিনি আজীবন মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লড়াই চালিয়ে যেতে চান। কারণ তার বিশ্বাস—মানুষকে বাঁচাতে পারে মানুষই, আর ভালোবাসাই পারে অন্ধকার থেকে আলোয় ফিরিয়ে আনতে।