ভোট পরবর্তী হিংসায় রক্তাক্ত করনদীঘি,বিশিষ্ট নাগরিক রাজু ঘোষের উপর নৃশংস হামলা, অভিযোগের তীর তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে

প্রদীপ সিনহা করণদিঘি | ৮ মে :নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসায় ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর দিনাজপুর জেলার করনদীঘি। এবার বিশিষ্ট নাগরিক আশীষ ওরফে রাজু ঘোষের উপর নৃশংস হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। অভিযোগের আঙুল উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুনাল দত্ত ও তাঁর স্ত্রী পায়েল দাসদত্ত-এর বিরুদ্ধে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে বাজার করতে বেরিয়েছিলেন রাজু ঘোষ। অভিযোগ, সেই সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা-সহ শরীরের একাধিক স্থানে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ।

রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি।স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত আহত রাজু ঘোষকে উদ্ধার করে করণদীঘি গ্রামীণ হাসপাতাল-এ নিয়ে যান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ-এ স্থানান্তরিত করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজনা ছড়ায় করনদীঘি জুড়ে। ন্যায়বিচারের দাবিতে বহু মানুষ করণদীঘি থানা-র সামনে বিক্ষোভে সামিল হন। আহতের ভাই রানা ঘোষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই হামলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।এলাকাবাসীদের একাংশের অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই বিরোধী মতের মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। রাজু ঘোষ সিপিআইএম প্রার্থী হাজী সাহাবুদ্দিনের সমর্থনে সক্রিয়ভাবে প্রচার করেছিলেন বলেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।উল্লেখ্য, করনদীঘি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী গৌতম পাল প্রায় কুড়ি হাজার ভোটে পরাজিত হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই পরাজয়ের “বদলা” নিতেই এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে।পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। সূত্রের খবর, অভিযুক্ত কুনাল দত্ত ও পায়েল দাসদত্তকে ইতিমধ্যেই আটক করেছে করনদীঘি থানার পুলিশ। যদিও গোটা ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।শান্ত করনদীঘিতে ফের রাজনৈতিক হিংসার ছায়া নেমে আসায় আতঙ্কে সাধারণ মানুষ। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—গণতন্ত্রের এই পরিবেশে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?