দর্শনার্থীদের জনসুনামি সামলাতে কালিয়াগঞ্জ পুলিশের ‘মাস্টারপ্ল্যান’! আইসি অভিজিৎ দত্তের নেতৃত্বে সুশৃঙ্খল পুজো পরিক্রমা

তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ, ২৪ অক্টোবর: দুর্গাপুজোয় দর্শনার্থীদের ঢল, উপচে পড়া ভিড় আর জনসমুদ্রের চাপ—সবকিছুকে সামাল দিয়ে কালিয়াগঞ্জ শহর ও গ্রামীণ এলাকার পুজো পরিক্রমা নির্বিঘ্ন রাখতে তৎপর ছিল পুলিশ প্রশাসন। পঞ্চমী থেকে অষ্টমী, নবমী পর্যন্ত দর্শনার্থীদের বিপুল সমাগমের মধ্যেও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষকে সুষ্ঠুভাবে পুজো দেখার সুযোগ করে দিতে কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশের একাধিক পরিকল্পনা কার্যকর ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।বিশেষ করে মহাষ্টমীর রাতে কালিয়াগঞ্জ শহরের বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে দর্শনার্থীদের বিপুল ভিড় সামলানো পুলিশের কাছে ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কালিয়াগঞ্জ থানার আইসি অভিজিৎ দত্তের নেতৃত্বে পুলিশকর্মীরা যেভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নজর দিয়েছেন, তা নিয়ে দর্শনার্থীদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। পুলিশের তৎপরতায় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই বহু মানুষ পুজো পরিক্রমা করতে পেরেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।আইসি অভিজিৎ দত্ত জানান, এবারের দুর্গাপুজোয় অন্যান্য বছরের তুলনায় সাধারণ মানুষের উৎসাহ ও ভিড় ছিল অনেক বেশি।

সেই কথা মাথায় রেখেই আগে থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও পুজোমণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চারশোরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল বলে তিনি জানান। প্রত্যেক পুলিশকর্মী যাতে নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হয়।পুজোর দিনগুলিতে নজরদারি ও ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করতে কালিয়াগঞ্জ থানায় ক্যাম্প করেন রায়গঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিদ্যুৎ তরফদার।

 

পাশাপাশি রায়গঞ্জের ডিএসপি মহম্মদ বদিউজ্জামানও থানায় উপস্থিত থেকে পুলিশি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জেলা পুলিশ সুপার ড. সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ নিজেও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে মোটরবাইকে শহরের বিভিন্ন দুর্গাপুজো মণ্ডপ পরিদর্শন করেন। পুলিশের এই তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার বার্তা পৌঁছে দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেক দর্শনার্থী।আইসি অভিজিৎ দত্ত বলেন, “এবারের পুজোয় আমাদের টিমওয়ার্ক অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ছিল।

বিশাল জনসমাগমের মধ্যেও মানুষ যাতে শান্তিপূর্ণভাবে পুজো দেখতে পারেন, তার জন্য পুলিশকর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করেছেন। তাঁদের অনেককেই পরিবারের কথা ভুলে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। এই সাফল্যের কৃতিত্ব অবশ্যই আমাদের পুরো টিমের।”কালিয়াগঞ্জ শহর ও গ্রামীণ এলাকার পুজোকে কেন্দ্র করে পুলিশের কাছে বড় ধরনের অভিযোগ না আসার পিছনেও পুলিশকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসনের একাংশ। উৎসবের আনন্দ অক্ষুণ্ণ রেখে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম পরিকল্পনা, নিয়মিত নজরদারি এবং পুলিশ আধিকারিকদের সক্রিয় উপস্থিতিই এবারের পুজোয় কালিয়াগঞ্জের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হয়ে উঠেছে।এবারের দুর্গাপূজার সব কয়েকটা দিনই কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকায় অতি সাধারণ মানুষ থেকে বুদ্ধিজীবী সবার মুখেই পুলিশের প্রশংসার কথা শোনা গেছে।গ্রামের সাধারন মানুষদের বলতে শোনা গেছে পুলিশের ভালো ব্যবহার সবাই মুগ্ধ।বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবীদের বলতে শোনা যায় অনেকদিন পর পুলিশের কাজের সত্যি সত্যি প্রশংসা করতে হয়। কালিয়াগঞ্জ পাবনা কলোনীর অষ্টমীর জনসমুদ্র বা জন সুনামি কে কালিয়াগঞ্জ থানার আই সি অভিজিৎ দত্তের নেতৃত্বে যে ভাবে সুশৃঙ্খল ভাবে আয়ত্তের মধ্যে নিয়ে দর্শনার্থীদের যে ভাবে ঠাকুর এবং ভূত বাংলো দেখতে সাহায্য করেছে তা এক কথায় অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছে কালিয়াগঞ্জ থানার একদল সুশৃঙ্খল পুলিশ বাহিনী যা অত্যন্ত গর্বের এবং অভিনন্দন যোগ্য।
কালিয়াগঞ্জ থানার আই সি সহ থানার সমস্ত পুলিশ আধিকারিক থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার,ডি এস পি এবং
সবশেষে রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অবশ্যই ধন্যবাদ পাবার ক্ষেত্রে যোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন বলে সাধারণ মানুষ মনে করে।