তৃণমূল গঠনের লড়াইয়ে অসীম ঘোষ: উত্তর দিনাজপুরে ঘাসফুল রাজনীতির ভিত্তিপ্রস্তর


তন্ময় চক্রবর্তী ঃ– ১৯৯৮ সাল—বাংলার রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের বছর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কংগ্রেস ভেঙে যখন জন্ম নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস, তখন সেই উত্তাল সময়ে উত্তর দিনাজপুরে নতুন রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন এক তরুণ সংগঠক—অসীম ঘোষ।আজ তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের শাসক দল হলেও, সেই শুরুর দিনগুলো ছিল ভয়ংকর কঠিন।

জেলায় তখন তৃণমূলের নাম নেওয়ার লোক ছিল হাতে গোনা। হুমকি, উপেক্ষা ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও বুক চিতিয়ে সংগঠন গড়ে তোলার লড়াইয়ে সামনের সারিতে ছিলেন অসীম ঘোষ।তাঁর নেতৃত্বেই উত্তর দিনাজপুর জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক যাত্রা কার্যত শুরু হয়। দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনিই আয়োজন করেছিলেন জেলায় নেত্রীর প্রথম জনসভা।

ঐতিহাসিক সেই জনসভা অনুষ্ঠিত হয় অসীম ঘোষের নিজের গ্রাম তরঙ্গপুরের নন্দকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে—যা আজও জেলার তৃণমূল রাজনীতির মাইলফলক হয়ে রয়েছে।অসীম ঘোষের কাছে রাজনীতি কখনও ক্ষমতার খেলা নয়। তাঁর রাজনীতির মূল দর্শন—মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন,“রাজনীতি যদি মানুষের কাজে না লাগে, তাহলে সেই রাজনীতির কোনো মূল্য নেই। দল গড়তে গিয়ে বহু লড়াই ও আত্মত্যাগ করতে হয়েছে।”বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলের অন্দরে ও বাইরে যারা ব্যক্তিস্বার্থে তৃণমূলের ক্ষতি করতে চাইছে বা নীরবে বিরোধীদের সুবিধা করে দিচ্ছে—তাদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন এই বর্ষীয়ান নেতা।

তাঁর হুঁশিয়ারি,“দলের ক্ষতি যারা করবে, তাদের বিরুদ্ধে দারুণ লড়াই হবে। খেলা হবে।”অসীম ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের একজন নিষ্ঠাবান সৈনিক হিসেবেই লড়ে যাবেন।দীর্ঘ এই রাজনৈতিক যাত্রাপথ আজ উত্তর দিনাজপুরের তৃণমূল কর্মীদের কাছে এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা। নেত্রীর প্রতি অটুট আস্থা এবং মা–মাটি–মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতাই তাঁর রাজনীতির আসল শক্তি।