ডাল–ভাতে মাছের স্বাদে গেরুয়া উচ্ছ্বাস! ইসলামপুরে বিজেপির ধন্যবাদ র‍্যালিতে উপচে পড়া ভিড়

 

দেবব্রত চক্রবর্তী ইসলামপুর: বাংলার সংস্কৃতি, বাঙালির আবেগ আর রাজনৈতিক জয়ের উচ্ছ্বাস— সবকিছুর এক অনন্য মেলবন্ধন দেখা গেল ইসলামপুরে বিজেপির ধন্যবাদ জ্ঞাপন র‍্যালিতে। ‘ডাল-ভাতে মাছ’কে সামনে রেখেই ইসলামপুর বিধানসভা এলাকায় অনুষ্ঠিত হল বিজেপির বিজয় উৎসব। ইসলামপুরের বিজেপি নেতা চিত্রজিৎ রায় ওরফে ‘পাখি’র নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার শহরজুড়ে বের হয় বিশাল ধন্যবাদ জ্ঞাপন শোভাযাত্রা। কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতিতে কার্যত উৎসবের রূপ নেয় গোটা কর্মসূচি।এদিনের শোভাযাত্রা শুরু হয় ইসলামপুর কৃষি বাজার এলাকা থেকে।

 

বিজেপির পতাকা, ব্যানার, আবির আর জয়ের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রাজ্য সড়ক। আশ্রমপাড়া মোড় ঘুরে বিশাল মিছিল পৌঁছায় ইসলামপুর বাস টার্মিনাস এলাকায়। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে বহু সাধারণ মানুষও এই বিজয় মিছিল প্রত্যক্ষ করেন।

 

মহিলা, যুবক, প্রবীণ— সকলের অংশগ্রহণে মিছিল যেন পরিণত হয় এক জনসমুদ্রে।শোভাযাত্রা শেষে বাস টার্মিনাস এলাকায় সাধারণ মানুষের জন্য আয়োজন করা হয় বিশেষ মাছ-ভাতের মধ্যাহ্নভোজ। বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে জয়ের আনন্দ ভাগ করে নেয় বিজেপি নেতৃত্ব। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি বহু সাধারণ মানুষও এই আয়োজনে অংশ নেন।

 

মাছ-ভাত পরিবেশনকে ঘিরে এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়।বিজেপি নেতা চিত্রজিৎ রায় বলেন,“এই জয় কোনও ব্যক্তির নয়, সাধারণ মানুষের জয়। ইসলামপুরের মানুষ যেভাবে আমাদের আশীর্বাদ করেছেন, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। তাই মানুষের কাছে পৌঁছে ধন্যবাদ জানাতেই আজকের এই ধন্যবাদ জ্ঞাপন শোভাযাত্রা। কয়েক হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। আমরা চাই আগামী দিনেও মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে।”তিনি আরও বলেন,“বাঙালির সংস্কৃতি ও আবেগকে সম্মান জানিয়েই মাছ-ভাতের আয়োজন করা হয়েছে। আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য। তাই সাধারণ মানুষের সঙ্গে বসে খাওয়া-দাওয়া, আনন্দ ভাগ করে নেওয়াই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়।”উত্তর দিনাজপুর জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তাপস বিশ্বাস বলেন,“সারা রাজ্যে মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। ইসলামপুরেও তার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেছে। সাধারণ মানুষ দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। আজকের এই বিপুল জনসমাগম প্রমাণ করছে মানুষ বিজেপির উপর আস্থা রাখছেন। এই সমর্থন আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিল।”তিনি আরও বলেন,“মানুষের জন্য কাজ করাই বিজেপির মূল লক্ষ্য। আগামী দিনে ইসলামপুরের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, রাস্তা-ঘাট, স্বাস্থ্য পরিষেবা— সব ক্ষেত্রেই আমরা মানুষের পাশে থাকব। আজকের এই ধন্যবাদ র‍্যালি আসলে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি প্রচেষ্টা।”জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি সুরজিৎ সেন বলেন,“এই বিপুল জনসমাগম প্রমাণ করে ইসলামপুরে বিজেপির সংগঠন কতটা শক্তিশালী হয়েছে। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। কোনও ভয় বা চাপ নয়, মানুষ নিজেদের ইচ্ছাতেই বিজেপির পাশে দাঁড়িয়েছেন। সাধারণ মানুষের ভালোবাসাই আমাদের শক্তি।”তিনি আরও বলেন,“বাংলার মানুষ এখন উন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং পরিবর্তন চান। সেই লক্ষ্য নিয়েই বিজেপি এগোচ্ছে। আজকের কর্মসূচি শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি সাধারণ মানুষের সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক আরও মজবুত করার একটি উদ্যোগ।”এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির একাধিক জেলা ও টাউন নেতৃত্ব। পুরো কর্মসূচি ঘিরে ইসলামপুর শহরে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তবে রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও উৎসবমুখর পরিবেশেই শেষ হয় ধন্যবাদ জ্ঞাপন র‍্যালি ও মাছ-ভাতের বিশেষ আয়োজন।