কালিয়াগঞ্জে মৃত্যুঞ্জয় বর্মন গুলিকাণ্ডে বড় সিদ্ধান্ত! তৎকালীন এএসআই মোয়াজ্জেম হোসেন সাসপেন্ড, বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিতে সরব সাংসদ-বিদায়ক
তন্ময় চক্রবর্তী :– উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জে রাজবংশী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, সেই বহুল আলোচিত ঘটনায় নতুন মোড় এল। শনিবার বিধানসভায় ওই ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তৎকালীন কালিয়াগঞ্জ থানার এএসআই মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাসপেন্ড করার ঘোষণা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।উল্লেখ্য, ঘটনার সময় কালিয়াগঞ্জের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয়েছিল ওই স্কুলছাত্রীর দেহ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা কালিয়াগঞ্জ। দফায় দফায় পথ অবরোধ, বিক্ষোভ এবং কালিয়াগঞ্জ থানা ঘেরাওকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে থানা ভাঙচুর ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে পুলিশি অভিযান শুরু হয়।
সেই অভিযানের সময় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় রাজবংশী যুবক মৃত্যুঞ্জয় বর্মনের।শনিবার বিধানসভায় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীন তৃণমূল সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, কালিয়াগঞ্জে মৃত্যুঞ্জয় বর্মনের মৃত্যুর ঘটনায় তৎকালীন এএসআই মোয়াজ্জেম হোসেনের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে সাসপেন্ড করা হচ্ছে।মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল। তিনি বলেন, “এটি দীর্ঘদিনের দাবি ছিল কালিয়াগঞ্জবাসীর। বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারী মৃত্যুঞ্জয় বর্মনের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তিনি শুধু পরিবারের এক সদস্যের চাকরির ব্যবস্থা করেননি, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করলেন।”সাংসদের দাবি, শুধু সাসপেনশন নয়, মৃত্যুঞ্জয় বর্মনের মৃত্যু এবং স্কুলছাত্রীর ধর্ষণ ও খুন—উভয় ঘটনাতেই বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত। তাঁর কথায়, “সাহেবঘাটার সেই বোন এবং রাধিকাপুরের মৃত্যুঞ্জয় বর্মন—দু’জনেরই প্রকৃত বিচার চায় কালিয়াগঞ্জবাসী। দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”একই সুর শোনা যায় কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক উৎপল মহারাজের বক্তব্যেও।

তিনি বলেন, “আজ আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। বহুদিনের আন্দোলন ও লড়াইয়ের ফল আজ মিলেছে। আমাদের জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কালিয়াগঞ্জের সেই নৃশংস ঘটনার প্রেক্ষিতে তৎকালীন এএসআই মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাসপেন্ড করেছেন।
একজন নিরীহ বোনকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল, পরে আন্দোলনের সময় মৃত্যুঞ্জয় বর্মন পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান।
দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই ঘটনার বিচার চেয়ে আন্দোলন করেছি। আজকের সিদ্ধান্ত সেই ন্যায়বিচারের পথে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ।”এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর কালিয়াগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।
একই সঙ্গে এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, শুধুমাত্র প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
