“ওয়ার্ডভিত্তিক লিডেই নির্ধারণ হবে ভাগ্য: কালিয়াগঞ্জ শহরে তৃণমূলের অঙ্ক বনাম বিজেপির ‘রেকর্ড জয়ের’ দাবি”
তন্ময় চক্রবর্তী :- কালিয়াগঞ্জ পুরসভা এলাকায় এবারের বিধানসভা ভোট ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণ এখন সম্পূর্ণভাবে ঘুরছে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নকে কেন্দ্র করে—শহরের কোন ওয়ার্ড থেকে কতটা লিড এল? এই অঙ্কই নির্ধারণ করতে পারে তৃণমূল কাউন্সিলারদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভাগ্য।ভোটের আগে থেকেই দলীয় নেতৃত্ব পরিষ্কার বার্তা দিয়েছিল—নিজ নিজ ওয়ার্ড থেকে সন্তোষজনক লিড দিতে না পারলে আগামী পুরভোটে কাউন্সিলর পদে টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। ফলে এই নির্বাচন শুধুমাত্র বিধানসভা লড়াই নয়, অনেকাংশেই তা হয়ে উঠেছিল কাউন্সিলারদের ‘পারফরম্যান্স টেস্ট’।এই চাপকে সামনে রেখে কালিয়াগঞ্জ পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলাররা কার্যত সর্বশক্তি নিয়োগ করেন নির্বাচনী প্রচারে। দিন-রাত এক করে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি প্রচার, ছোট ছোট বৈঠক, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ—কোনও দিকেই খামতি রাখতে চাননি তারা।

ভোটের দিনেও বুথে বুথে সক্রিয় উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। লক্ষ্য ছিল একটাই—গত লোকসভা নির্বাচনে শহরাঞ্চলে যে পিছিয়ে পড়া, তা কোনওভাবেই পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া যাবে না।তবে ভোট মিটতেই এখন শুরু হয়েছে আসল অঙ্ক কষা। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে প্রাপ্ত ভোটের সম্ভাব্য চিত্র নিয়ে কাউন্সিলাররা ইতিমধ্যেই দলীয় নেতৃত্বকে রিপোর্ট দিয়েছেন। কোথায় কতটা এগিয়ে বা পিছিয়ে থাকা যেতে পারে, তার একটি প্রাথমিক চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই এখন তৃণমূল শিবিরে চলছে গভীর পর্যালোচনা।কালিয়াগঞ্জ আসনের তৃণমূল প্রার্থী নিতাই বৈশ্য আশাবাদী সুরে দাবি করেছেন, শহর এলাকায় দল যথেষ্ট ভালো জায়গায় রয়েছে। তাঁর মতে, আগের তুলনায় সংগঠন অনেক বেশি মজবুত হয়েছে এবং ভোটারদের সাড়া ইতিবাচক।অন্যদিকে, এই আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা দিতে চাইছে বিজেপি শিবির। কালিয়াগঞ্জের বিজেপি নেতা গৌরাঙ্গ দাস সরাসরি দাবি করেছেন, এবারে রেকর্ড ভোটে জয় আসতে চলেছে। তাঁর বক্তব্য, প্রতিটি বুথেই বিজেপি ব্যাপক লিড পাবে এবং দলের প্রার্থী উৎপল মহারাজ বিপুল ব্যবধানে জয়ী হবেন। বিজেপির এই আত্মবিশ্বাস তৃণমূলের ভিতরে কিছুটা হলেও স্নায়ুচাপ তৈরি করেছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।এদিকে তৃণমূলের শহর সভাপতি সুজিত সরকার ভিন্ন সুরে পাল্টা দাবি করেছেন, গত লোকসভা নির্বাচনে যেখানে শহরের ৪৫টি বুথে প্রায় ১৯ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিল দল, সেখানে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে সরাসরি টক্কর দিয়ে তৃণমূল কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকবে। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শহরাঞ্চলে প্রায় ১১,৫০০ ভোটে পিছিয়ে থাকলেও এবার সেই ব্যবধান অনেকটাই কমবে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনে কালিয়াগঞ্জ শহর কার্যত ‘মাইক্রো-লেভেল ব্যাটলগ্রাউন্ড’-এ পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিটি ওয়ার্ডই একটি করে আলাদা যুদ্ধক্ষেত্র। তৃণমূলের কাছে এই ভোট শুধু একটি আসন জয়ের লড়াই নয়, বরং পুরভোটের আগে সংগঠন কতটা শক্তিশালী তা প্রমাণের পরীক্ষা। অন্যদিকে বিজেপির লক্ষ্য শহরাঞ্চলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে বড় ব্যবধানে জয় তুলে নেওয়া।সব মিলিয়ে, চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগে পর্যন্ত উত্তেজনা তুঙ্গে। ওয়ার্ডভিত্তিক লিডের অঙ্কই বলে দেবে—কালিয়াগঞ্জ শহরে রাজনৈতিক পাল্লা শেষমেশ কোন দিকে ঝুঁকল।
