“ভোটে ‘জবাব’, তারপরই পাঞ্জাবমুখী—রায়গঞ্জের পরিযায়ীদের প্রত্যাবর্তনে রাজনীতির তীব্র বার্তা”

তন্ময় চক্রবর্তী  :- উত্তর দিনাজপুর জেলার Raiganj থেকে উঠে এল এক অন্যরকম রাজনৈতিক বার্তা। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের তাগিদে হাজার কষ্ট সহ্য করে ভিনরাজ্য থেকে ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকরা ভোট দিয়ে ফের পাড়ি দিলেন কর্মস্থল Punjab-এর উদ্দেশ্যে। কিন্তু এই যাত্রা শুধু রুটিরুজির টান নয়—এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে ক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত।রবিবার রায়গঞ্জ ব্লকের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকশো পরিযায়ী শ্রমিক আবারও রওনা দিলেন পাঞ্জাবের দিকে।

এর আগে শুধুমাত্র ভোট দেওয়ার জন্যই তাঁরা প্রায় ৪৬ ঘণ্টার দীর্ঘ বাসযাত্রা করে বাড়ি ফিরেছিলেন। প্রায় ১২০ জন শ্রমিক একসঙ্গে দুটি বাস ভাড়া করে ফিরেছিলেন, যার মোট খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা—এক বিরল নজির।শ্রমিকদের কথায়, এই যাত্রা ছিল শুধু ভোট দেওয়ার জন্য নয়, বরং “প্রতিবাদ জানানো”-র জন্য। এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তাঁদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছিল। ফলে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করাই হয়ে উঠেছিল প্রধান লক্ষ্য।এক শ্রমিক বলেন, “ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায়নি, তাই এত টাকা খরচ করে বাসে আসতে হয়েছে। কিন্তু ভোটটা না দিলে নিজের অধিকারটাই হারিয়ে ফেলতাম।” ঠিকাদারের বক্তব্যও একই সুরে—“সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে আসা হয়েছিল, কারণ এই ভোটটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”তবে এই ঘটনায় উঠে এসেছে রাজনৈতিক ক্ষোভের সুরও। রায়গঞ্জের এক বাসিন্দা ফিরোজ আলম সরাসরি অভিযোগ করেন, ভিনরাজ্যে শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদ জানাতেই তাঁরা ভোট দিতে ফিরে এসেছেন।

তাঁর কথায়, “ইভিএমেই জবাব দিয়েছি।”অন্যদিকে, শ্রমিক রুস্তম আলী জানান, এই বিপুল বাসভাড়া আপাতত ঠিকাদার বহন করলেও, তা ভবিষ্যতে তাঁদের পারিশ্রমিক থেকেই কেটে নেওয়া হবে। অর্থাৎ, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়েও তাঁদের কাঁধে চাপছে ঋণের বোঝা।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু ভোটদান নয়—এটি এক ধরনের ‘নীরব আন্দোলন’।

যেখানে পরিযায়ী শ্রমিকরা তাঁদের অভিজ্ঞতা, ক্ষোভ এবং প্রত্যাশাকে ভোটের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।রবিবার বিকেলে রায়গঞ্জের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যুবকরা জড়ো হয়ে ফের বাসে চেপে দীর্ঘ পথযাত্রা শুরু করেন। চোখে স্বপ্ন, মনে ক্ষোভ আর বুকে গণতন্ত্রের দায়বদ্ধতা নিয়ে তাঁরা আবারও পাড়ি দিলেন ভিনরাজ্যে।এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিল—পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট আর শুধুই সংখ্যা নয়, বরং তা হয়ে উঠছে এক শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা।