অবশেষে বদলাবে কালিয়াগঞ্জের তারাবাজার! আধুনিক মার্কেট কমপ্লেক্স গড়তে বড় উদ্যোগ সাংসদ তথা পৌরপতি কার্তিক চন্দ্র পালের

তন্ময় চক্রবর্তী উত্তর দিনাজপুর জেলার অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি সবজি বাজার কালিয়াগঞ্জের তারাবাজারকে আধুনিক রূপ দিতে বড় পদক্ষেপ নিলেন রায়গঞ্জের সাংসদ তথা কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার পৌরপতি কার্তিক চন্দ্র পাল। দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সমস্যায় জর্জরিত এই বাজারকে একটি আধুনিক মার্কেট কমপ্লেক্সে পরিণত করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই প্রস্তাব তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। রায়গঞ্জের মহকুমা শাসককে সঙ্গে নিয়ে তারাবাজার পরিদর্শন করেন সাংসদ তথা পৌরপতি কার্তিক চন্দ্র পাল। বাজারের বর্তমান অবস্থা, ব্যবসায়ীদের সমস্যা, ক্রেতাদের অসুবিধা এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন তিনি।

 

বাজার ঘুরে দেখার পর সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।কার্তিক চন্দ্র পাল বলেন, “তারাবাজার কালিয়াগঞ্জের বহু বছরের ঐতিহ্যবাহী বাজার। প্রতিদিন আশপাশের গ্রামাঞ্চল থেকে অসংখ্য কৃষক এখানে সবজি নিয়ে আসেন। এখানেই পাইকারি সবজির বড় লেনদেন হয়। কিন্তু এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজারে এখনও পর্যাপ্ত শেড, আধুনিক ড্রেনেজ, সুষ্ঠু বসার ব্যবস্থা কিংবা ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নেই। বর্ষাকালে কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ ক্রেতাদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। তাই এই বাজারকে আধুনিক মানের মার্কেট কমপ্লেক্সে রূপান্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”তিনি আরও জানান, বাজারের উন্নয়নের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রযুক্তিগত সমীক্ষা (ভেরিফিকেশন), পরিকল্পনা (প্ল্যান) এবং ব্যয় নির্ধারণ (এস্টিমেট) সম্পন্ন হওয়ার পর আধুনিক মার্কেট কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ শুরু হবে।প্রস্তাবিত আধুনিক বাজারে উন্নত শেড, প্রশস্ত চলাচলের রাস্তা, উন্নত নিকাশি ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলো, পানীয় জলের ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ এবং ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে যেমন কৃষকরা উপকৃত হবেন, তেমনি প্রতিদিন বাজারে আসা হাজার হাজার সাধারণ মানুষেরও দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এর আগেও কার্তিক চন্দ্র পাল পৌরপতি থাকাকালীন এই বাজারের উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে পৌরসভার নেতৃত্বে একাধিক পরিবর্তন হলেও তারাবাজারের আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যার মধ্যে পড়ে থাকতে হয়েছে ব্যবসায়ী, কৃষক এবং সাধারণ মানুষকে।নতুন করে এই প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়ায় ব্যবসায়ী মহল, কৃষক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই বাজার আধুনিক রূপ পেলে কালিয়াগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্যের আরও প্রসার ঘটবে এবং জেলার অন্যতম বৃহৎ পাইকারি কৃষিপণ্য বিপণন কেন্দ্র হিসেবে তারাবাজারের গুরুত্ব আরও বাড়বে।এলাকার সাধারণ মানুষের একাংশের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু বাজারের চেহারাই বদলাবে না, কৃষক, ব্যবসায়ী ও ক্রেতা—সকলের জন্যই আরও উন্নত ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হবে। এখন সকলের নজর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের দিকে, যাতে বহু প্রতীক্ষিত এই আধুনিক মার্কেট কমপ্লেক্সের কাজ দ্রুত শুরু করা যায়।