দুর্গাপুজোর আগমনী বার্তা কালিয়াগঞ্জে! ঐতিহ্য, ঐশ্বর্য আর ভালোবাসার মিলনমেলায় জমজমাট প্রিয়দর্শিনী গ্রুপের ‘আগমনী উৎসব’
তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ:ঢাকে কাঠি পড়তে এখনও কয়েকটা দিন বাকি। মণ্ডপে প্রতিমার কাজও চলছে জোরকদমে। কিন্তু তার আগেই দুর্গাপুজোর উৎসবের আমেজে মেতে উঠল কালিয়াগঞ্জ। ঐতিহ্য, ঐশ্বর্য, ভালোবাসা এবং নারীর স্বনির্ভরতার বার্তা নিয়ে শুরু হল প্রিয়দর্শিনী গ্রুপের বহুল প্রতীক্ষিত ‘আগমনী উৎসব’।

প্রতিবছরের মতো এবছরও সম্পূর্ণ মহিলা পরিচালিত প্রিয়দর্শিনী গ্রুপের উদ্যোগে কালিয়াগঞ্জের হনুমান ভবনে শুরু হয়েছে এই বিশেষ মিলনমেলা। দুর্গাপুজোর আগেই এই আগমনী উৎসব যেন সাধারণ মানুষের কাছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের আনন্দকে কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে এল। প্রথম দিন থেকেই মেলাকে ঘিরে মানুষের উৎসাহ ও ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
শুধু কেনাকাটার মেলা নয়, এই আগমনী উৎসব একইসঙ্গে নারীর সৃজনশীলতা, উদ্যোগ এবং স্বনির্ভরতার এক অনন্য মঞ্চ হয়ে উঠেছে। উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদা জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মহিলারা নিজেদের হাতে তৈরি নানা ধরনের সামগ্রী নিয়ে এই মেলায় হাজির হয়েছেন। কেউ এনেছেন পোশাক, কেউ সাজসজ্জার সামগ্রী, কেউ কসমেটিকস, আবার কেউ নিজেদের হাতে তৈরি নানা ধরনের খাবার।মেলার প্রতিটি স্টলেই যেন ফুটে উঠেছে বাংলার ঘরের মহিলাদের সৃজনশীলতা।
নিজেদের হাতে তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে মহিলারা শুধু প্রদর্শনই করছেন না, সরাসরি ক্রেতাদের কাছে তা বিক্রিও করছেন। এর ফলে নিজেদের তৈরি পণ্যের পরিচিতি বাড়ার পাশাপাশি সরাসরি উপার্জনের সুযোগও তৈরি হচ্ছে তাঁদের।দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে শাড়ি, পোশাক, বিভিন্ন ধরনের ফ্যাশন সামগ্রী, কসমেটিকস ও মহিলাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে মেলায়।
পাশাপাশি রয়েছে মহিলাদের নিজেদের হাতে তৈরি বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু খাবার। ফলে কেনাকাটার পাশাপাশি খাবারের স্বাদ নিতেও ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।আগমনী উৎসবের প্রথম দিনেই মিলনমেলায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে বলে উদ্যোক্তারা জানান।
সকাল থেকে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই হনুমান ভবন চত্বরে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। বিভিন্ন স্টলে ক্রেতাদের কেনাকাটার ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো।মেলায় অংশ নেওয়া মহিলা উদ্যোক্তাদের অনেকেই জানান, নিজেদের হাতে তৈরি সামগ্রী নিয়ে এমন একটি মেলায় অংশগ্রহণ করতে পেরে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত।
প্রথম দিনেই ভালো বিক্রি হওয়ায় তাঁদের উৎসাহ আরও বেড়েছে।এক মহিলা উদ্যোক্তার কথায়, “নিজের হাতে তৈরি জিনিস নিয়ে মেলায় এসে মানুষের সামনে সেগুলি তুলে ধরতে পারছি, এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত আনন্দের।
প্রথম দিনেই ভালো সাড়া পেয়েছি। মানুষ আমাদের তৈরি সামগ্রী পছন্দ করছেন এবং কিনছেন—এতেই আমরা খুব খুশি।”আরেক মহিলা উদ্যোক্তা জানান, “দুর্গাপুজোর আগে এই ধরনের মেলা আমাদের মতো ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরাসরি মানুষের কাছে নিজেদের তৈরি জিনিস পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি।
এতে আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়ছে, তেমনই স্বনির্ভর হওয়ার পথও আরও মজবুত হচ্ছে।”প্রিয়দর্শিনী গ্রুপের এই উদ্যোগের অন্যতম বিশেষত্ব হল—এখানে উৎসবের আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নারীর অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার বার্তা। নিজেদের প্রতিভা ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে মহিলারা নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারেন, এই মেলা তারই একটি বাস্তব ছবি তুলে ধরেছে।বছরের পর বছর ধরে প্রিয়দর্শিনী গ্রুপের এই আগমনী উৎসব কালিয়াগঞ্জের মানুষের কাছে একটি পরিচিত নাম হয়ে উঠেছে।
দুর্গাপুজোর আগে কেনাকাটা, পরিচিতদের সঙ্গে দেখা হওয়া, বিভিন্ন জেলার মহিলা উদ্যোক্তাদের তৈরি সামগ্রী দেখা এবং উৎসবের আবহ উপভোগ—সব মিলিয়ে এই মেলা ক্রমশই পরিণত হয়েছে এক প্রাণের মিলনমেলায়।শরতের আকাশে কাশফুলের দোলা, বাতাসে পুজোর গন্ধ—তার সঙ্গে কালিয়াগঞ্জের হনুমান ভবনে আগমনী উৎসব।
সব মিলিয়ে শহরবাসীর মনে যেন দুর্গাপুজোর আগমনীর সুর আরও আগেই বেজে উঠেছে।প্রিয়দর্শিনী গ্রুপের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই মেলা আগামী দিনগুলিতেও মানুষের ভিড়ে জমজমাট হয়ে উঠবে বলেই আশা উদ্যোক্তাদের। আর এই মেলার প্রতিটি স্টলে নিজেদের তৈরি সামগ্রী নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলাদের মুখের হাসিই যেন বলে দিচ্ছে—উৎসব শুধু আনন্দের নয়, উৎসব হতে পারে স্বপ্নপূরণেরও।
কালিয়াগঞ্জে তাই এবার দুর্গাপুজোর আগেই শুরু হয়ে গেল ঐতিহ্য, ভালোবাসা, সৃজনশীলতা ও নারী স্বনির্ভরতার এক সুন্দর আগমনী অধ্যায়।প্রিয়দর্শিনী গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার সোমা নন্দী নাগ বলেন, “প্রতিবছরের মতো এবছরও আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে আগমনী উৎসবের আয়োজন করেছি।
আমাদের মূল উদ্দেশ্য শুধু দুর্গাপুজোর আনন্দকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া নয়, মহিলাদের নিজেদের হাতে তৈরি সামগ্রীকে একটি বড় মঞ্চ দেওয়া। উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদার বিভিন্ন প্রান্তের মহিলা উদ্যোক্তারা এখানে তাঁদের তৈরি সামগ্রী নিয়ে এসেছেন। তাঁরা নিজেরাই তাঁদের পণ্য তৈরি করছেন এবং নিজেরাই বিক্রি করছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। প্রথম দিনেই মানুষের যে সাড়া আমরা পেয়েছি, তাতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আগামী দিনগুলিতেও মানুষকে এই মেলায় এসে মহিলা উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।”বিক্রেতা দীপা বর্মন বলেন, “এই মেলায় অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি খুবই খুশি। নিজের হাতে তৈরি সামগ্রী নিয়ে এসে সরাসরি ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরতে পারছি। প্রথম দিনেই মানুষের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছি এবং বেশ কিছু সামগ্রী বিক্রিও হয়েছে। এই ধরনের মেলা আমাদের মতো মহিলা উদ্যোক্তাদের নিজেদের কাজকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ করে দেয়। আগামী দিনে আরও ভালোভাবে কাজ করার উৎসাহ পাচ্ছি।”বিক্রেতা সুকন্যা দে বলেন, “দুর্গাপুজোর আগে এই আগমনী উৎসব আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে এসে বিভিন্ন ধরনের মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের তৈরি সামগ্রী বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছি। প্রথম দিনেই ক্রেতাদের উৎসাহ দেখে খুব ভালো লাগছে। মহিলারা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে কীভাবে স্বনির্ভর হতে পারেন, এই মেলা তার একটি সুন্দর উদাহরণ। প্রিয়দর্শিনী গ্রুপকে ধন্যবাদ, আমাদের মতো মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্য এমন একটি সুন্দর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার জন্য।”
