কালিয়াগঞ্জে কার্তিক পালের বাড়িতে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার,সৌজন্য সাক্ষাতে উত্তর দিনাজপুরের উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা, উপস্থিত জেলা বিজেপি সভাপতি নিমাই কবিরাজ

 

তন্ময় চক্রবর্তী , কালিয়াগঞ্জ, ২০ সেপ্টেম্বর: উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পালের নিজস্ব বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ তথা ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার। রবিবারের এই সৌজন্য সাক্ষাৎকে ঘিরে বিজেপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে যথেষ্ট উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।

এদিন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি নিমাই কবিরাজ। বাড়িতে পৌঁছনোর পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে ফুলের স্তবক দিয়ে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভ্যর্থনা জানান রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পালের স্ত্রী মিঠু পাল।

এরপর কার্তিক চন্দ্র পালের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সৌজন্য বিনিময় হয় এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গ্রুপ ছবিও তোলা হয়।সৌজন্য সাক্ষাতের পর রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পালের সঙ্গে উত্তর দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে একপ্রস্থ আলোচনা করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার।

জেলার শিক্ষা ব্যবস্থা, যোগাযোগ পরিকাঠামো, রেল পরিষেবা, সাধারণ মানুষের নাগরিক পরিষেবা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি-সহ একাধিক বিষয় আলোচনায় উঠে আসে বলে জানা গেছে।বিশেষ করে উত্তর দিনাজপুরের উন্নয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুযোগ যাতে সাধারণ মানুষের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছয় এবং জেলার গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত সমস্যাগুলির সমাধানে কেন্দ্র ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে আরও সমন্বয় গড়ে ওঠে, সেই বিষয়েও আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে রায়গঞ্জ কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন কার্তিক চন্দ্র পাল এবং বালুরঘাট থেকে নির্বাচিত হন সুকান্ত মজুমদার।সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল বলেন, “কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার আমার কালিয়াগঞ্জের বাড়িতে এসেছিলেন।

তাঁকে পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছি। এই সাক্ষাৎ ছিল সম্পূর্ণ সৌজন্যমূলক। তবে সৌজন্য সাক্ষাতের পাশাপাশি উত্তর দিনাজপুর জেলার উন্নয়ন নিয়েও আমাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।”তিনি আরও বলেন, “উত্তর দিনাজপুরের মানুষের স্বার্থে শিক্ষা, রেল, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিকাঠামো এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা কীভাবে আরও দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করেছি। কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্য ও স্থানীয় স্তরের জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয় আরও শক্তিশালী হলে জেলার উন্নয়নের কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।”কার্তিক পাল বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটাই—উত্তর দিনাজপুরের সাধারণ মানুষের উন্নয়ন এবং জেলার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে জেলার মানুষের জন্য আরও বেশি সুযোগ ও পরিষেবা নিয়ে আসার বিষয়ে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাব।”এদিনের এই সাক্ষাৎ ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও যথেষ্ট চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে এটিকে মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবেই তুলে ধরা হয়েছে, তবুও উত্তর দিনাজপুরের উন্নয়ন নিয়ে দুই জনপ্রতিনিধির মধ্যে আলোচনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।