“মহিলা দেখলেই সরকারি বাস ‘উধাও’! বাস না থামার অভিযোগে চোপড়ায় জাতীয় সড়ক অবরোধ, ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মহিলা যাত্রীরা”

 

মহিলা যাত্রী দেখলেই কি সরকারি বাস দাঁড়ায় না? এমনই বিস্ফোরক অভিযোগকে কেন্দ্র করে সোমবার সকালে উত্তেজনা ছড়াল উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়ার কালাগছ এলাকায়। সরকারি ও এনবিএসটি বাসে মহিলা যাত্রীদের উঠতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হলেন একদল মহিলা যাত্রী। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ বাসের অপেক্ষায় জাতীয় সড়কের ধারে দাঁড়িয়ে থাকার পরও একের পর এক সরকারি ও এনবিএসটি বাস কোনওরকম গুরুত্ব না দিয়ে গন্তব্যের দিকে চলে যায়।

 

এর জেরেই ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় তাঁদের। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদে নামেন তাঁরা।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে কালাগছ এলাকায় প্রতিদিনের মতোই বাস ধরার জন্য বেশ কয়েকজন মহিলা যাত্রী জাতীয় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, দূর থেকে সরকারি বাস আসতে দেখা গেলেও যাত্রীরা হাত দেখানোর পরও অনেক বাস সেখানে না থেমেই চলে যায়। ফলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও গন্তব্যে যাওয়ার জন্য বাস পাওয়া যাচ্ছিল না।বিক্ষোভকারী মহিলা যাত্রীদের অভিযোগ, শুধু বাস না দাঁড়ানোই নয়, কোনও কোনও সময় বাস দাঁড়ালেও মহিলা যাত্রীদের সঙ্গে বাসকর্মীদের একাংশের দুর্ব্যবহার করতে দেখা যায়। তাঁদের দাবি, প্রতিদিনই কালাগছ এলাকায় এই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কর্মক্ষেত্র, চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মহিলা যাত্রীরা।বিক্ষোভকারীদের দাবি, “বাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকব, অথচ সরকারি বাস সামনে দিয়ে চলে যাবে—এটা মেনে নেওয়া যায় না।” তাঁদের আরও অভিযোগ, নিয়মিত বাস পরিষেবা থাকা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট জায়গায় বাস না দাঁড়ানোর কারণে বিশেষ করে মহিলা, বয়স্ক ও সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।ক্ষোভ ক্রমশ বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত জাতীয় সড়কের উপর বসে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। শুরু হয় অবরোধ ও বিক্ষোভ। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে অবরোধ। এর ফলে ব্যস্ত জাতীয় সড়কে যান চলাচল কার্যত ব্যাহত হয়ে পড়ে। রাস্তার দু’দিকে আটকে পড়ে একাধিক যানবাহন। তৈরি হয় যানজট। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় চোপড়া থানার পুলিশ।পুলিশ বিক্ষোভকারী মহিলা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অভিযোগ শোনে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেয়। পুলিশের আশ্বাসের পর অবশেষে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।তবে এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে—নির্দিষ্ট স্টপেজে সরকারি ও এনবিএসটি বাস না দাঁড়ানোর অভিযোগের আদৌ কোনও সমাধান হবে কি? নাকি প্রতিদিনের মতোই বাসের অপেক্ষায় জাতীয় সড়কের ধারে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে সাধারণ মহিলা যাত্রীদের?