স্বাধীনতার ৮০ বছর পরেও রাধিকাপুর–কালিয়াগঞ্জ বাস যোগাযোগ অধরা! সেতু হয়েছে, চওড়া রাস্তা হয়েছে, তবু বাস নেই—ক্ষোভ বাড়ছে যাত্রীদের

তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ, ৩১ আগস্ট:স্বাধীনতার ৮০ বছর পেরিয়ে গেলেও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাধিকাপুরের সঙ্গে কালিয়াগঞ্জ ও রায়গঞ্জের সরাসরি বাস যোগাযোগ এখনও অধরা। রাধিকাপুরের টাঙ্গন নদীর উপর পাকা সেতু নির্মাণ হয়েছে, যোগাযোগ ব্যবস্থারও যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। কিন্তু তারপরও রায়গঞ্জ–রাধিকাপুর কিংবা কালিয়াগঞ্জ–রাধিকাপুর রুটে নিয়মিত সরকারি বা বেসরকারি বাস চালুর কোনও দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।একসময় রাধিকাপুরে যাতায়াত ছিল কার্যত দুঃসাধ্য। টাঙ্গন নদীর উপর পাকা সেতু না থাকায় এলাকার মানুষকে বাধ্য হয়ে রেল সেতুর উপর দিয়ে যাতায়াত করতে হতো।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাইক ও সাইকেল নিয়ে রেলব্রিজ পারাপার করতেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় দশ হাজার মানুষকে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই দুর্ভোগের মধ্যেই দিন কাটাতে হয়েছে।পরবর্তীতে রাধিকাপুরের মানুষের কাছে উন্নয়নের নতুন আশার আলো হয়ে ওঠেন তৎকালীন কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক অধ্যাপক প্রমথনাথ দাস। ২০১১ সালে তৃণমূল সরকারের মন্ত্রিসভায় কংগ্রেসের রাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে যোগ দেওয়ার পর তাঁর উদ্যোগ ও তৎপরতায় রাধিকাপুরের টাঙ্গন নদীর উপর পাকা সেতু নির্মাণের কাজ এগিয়ে যায়। সেতু তৈরি হওয়ার পর বহু বছরের দুর্ভোগ থেকে কার্যত মুক্তি পান সীমান্ত এলাকার মানুষ।বর্তমানে রাধিকাপুরে সেতুর পাশে ছোটখাটো একটি বাসস্ট্যান্ডও রয়েছে। কিন্তু সেখানে  বাসের দেখা মেলে না। স্থানীয়দের প্রশ্ন, কালিয়াগঞ্জ থেকে রাধিকাপুরের মধ্যে যদি টোটো চলাচল করতে পারে, তাহলে সাধারণ যাত্রীদের সুবিধার জন্য বাস চালু করতে সমস্যা কোথায়?স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, রাধিকাপুরের সঙ্গে কালিয়াগঞ্জ ও রায়গঞ্জের বাস যোগাযোগ চালু হলে সীমান্ত এলাকার হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও যোগাযোগ ব্যবস্থার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।কালিয়াগঞ্জ ব্লক কংগ্রেস সভাপতি সুজিত দত্ত বলেন, রাধিকাপুর ও কালিয়াগঞ্জের মধ্যে বর্তমানে রাস্তা-ঘাটের যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে। টাঙ্গন নদীর উপর বড় কংক্রিটের সেতুও তৈরি হয়েছে। তাই এই রুটে বাস পরিষেবা চালু করার ক্ষেত্রে আর কোনও বড় বাধা থাকার কথা নয়। মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে দ্রুত বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।তবে শুধু বাস যোগাযোগ নয়, রাধিকাপুর সীমান্ত দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে স্থলপথে বাণিজ্য চালুর দাবিও জোরালো হচ্ছে। সুজিত দত্তের দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য একসময় প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী প্রয়াত প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সি উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং অনেকটাই এগিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর প্রয়াণের পর সেই উদ্যোগ থমকে যায়।সুজিত দত্তের দাবি, বর্তমানে স্থলবন্দর ও সীমান্ত বাণিজ্য চালুর ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ের অনেক কাজই সম্পন্ন হয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্রের ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার সদিচ্ছা দেখালে রাধিকাপুর সীমান্ত দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ স্থলবাণিজ্য চালু করা সম্ভব।সব মিলিয়ে, সেতু হয়েছে, রাস্তা হয়েছে, বাসস্ট্যান্ডও রয়েছে—শুধু নেই নিয়মিত বাস পরিষেবা। ফলে স্বাধীনতার আট দশক পরেও রাধিকাপুরের মানুষের প্রশ্ন একটাই—আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে কালিয়াগঞ্জ ও রায়গঞ্জের সঙ্গে সরাসরি বাস যোগাযোগের জন্য?