ভোরের অন্ধকারে টাঙ্গন নদীতে পুলিশের হানা! এসআই রামচন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে আটক বালি বোঝাই দুই ট্রাক্টর

তপন চক্রবর্তী,কালিয়াগঞ্জ ২৫ আগস্ট: রাতের অন্ধকারে টাঙ্গন নদী থেকে বেআইনিভাবে বালি তোলার অভিযোগে ফের সক্রিয় হল কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ। ভোররাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এসআই রামচন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বড় দল অভিযান চালিয়ে রাধিকাপুরের টাঙ্গন নদী থেকে বালি বোঝাই দুটি ট্রাক্টর আটক করেছে। পুলিশের অভিযানের আঁচ পেয়ে ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন বালি কারবারি নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

 

জানা যায়, মঙ্গলবার ভোর প্রায় ৪টা নাগাদ কালিয়াগঞ্জ থানার ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাধিকাপুর এলাকার বাগচাহারিয়া–চণ্ডীপুর সংলগ্ন টাঙ্গন নদীর পাড়ে অভিযান চালায় পুলিশ। এসআই রামচন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে পুলিশের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেই সেখানে থাকা বালি কারবারিদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে বালি বোঝাই দুটি ট্রাক্টর নদীর পাড়ে ফেলে রেখে কয়েকজন নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ওপারে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বালি বোঝাই দুটি ট্রাক্টর আটক করে কালিয়াগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে। আটক ট্রাক্টরগুলির বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।কালিয়াগঞ্জ থানার আইসি অভিজিৎ দত্ত জানান, গত রবিবার গোপন সূত্রে খবর আসে যে, রাধিকাপুরের টাঙ্গন নদীতে ফের রাতের অন্ধকারে বালি তোলার কাজ শুরু হয়েছে। নদী থেকে বেআইনিভাবে বালি তুলে ট্রাক্টরে করে বিভিন্ন এলাকায় পাচার ও বিক্রি করা হচ্ছে বলেও খবর পাওয়া যায়। সেই খবরের ভিত্তিতেই এসআই রামচন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান চালানো হয়।পুলিশের এই অভিযানে দুটি বালি বোঝাই ট্রাক্টর আটক হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই টাঙ্গন নদী থেকে বেআইনিভাবে বালি উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগ উঠছে। প্রশাসনের একাধিক অভিযান সত্ত্বেও এই কারবার পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় প্রশ্নও উঠেছে।তবে কালিয়াগঞ্জ থানার আইসি অভিজিৎ দত্তের স্পষ্ট বার্তা, রাধিকাপুরের টাঙ্গন নদী থেকে বেআইনি বালি উত্তোলন ও পাচার কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। নদীর বালি পাচার বন্ধ করতে পুলিশ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং আগামী দিনেও ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো হবে বলে তিনি জানান।পুলিশের এই ভোররাতের অভিযানে বালি কারবারিদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এখন নজর, নদী থেকে বেআইনি বালি উত্তোলনের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে আগামী দিনে আরও কী পদক্ষেপ করা হয়।