এবার কি রাজীব কুমারও মমতার হাত ছাড়ছেন?
সামগ্রিক পরিস্থিতি কিন্তু সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। একসময় মমতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ রাজীব কুমারের গতিবিধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যে রাজীব কুমার ২১ জুলাই, শহীদ দিবসে মমতার মঞ্চে ছিলেন, তিনিই হঠাৎ কাকলি ঘোষদস্তিদারের সঙ্গে মিটিং করতে গেলেন কেন? ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকা রাজ্যসভার সাংসদ (কোয়েল মল্লিক, প্রকাশ চিক বড়াইক, সুখেন্দু শেখর, সুস্মিতা দেব)-রা তাঁর হাত ছেড়েছেন। এর মধ্যে কোয়েল বাদে বাকি তিনজন যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। রয়েছেন গিয়েছেন হাতে গোনা কয়েকজন সাংসদ। তারই মধ্যে অন্যতম রাজীব। এবার তাঁরই গতিবিধি নিয়ে ক্রমেই বাড়ছে জল্পনা। সম্প্রতি, একুশে জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মঞ্চে ছিলেন তিনি। ১৫ দিন যেতে না যেতেই এবার কি তিনি শিবির বদলাচ্ছেন? উঠছে প্রশ্ন। তবে সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও পাওয়া যায় নি। হয়তো আরো কিছুটা সময় লাগবে।

একথা ঠিক, সমস্ত বিষয়টাই সরকারি লেভেলে। এখানে ব্যক্তিগত রাজনীতি না খোঁজাই ভালো। তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন প্রশ্নই ওঠে। রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে আলোচনা করতে বাংলার সাংসদদের বৈঠকে ডেকেছিলেন কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ডাকা সেই বৈঠকে গতকাল সংসদ চত্বরে বিজেপি এবং এনসিপিআই সাংসদদের পাশাপাশি তৃণমূলের তরফে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমার এবং লোকসভার সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল।
রাজ্য সরকারের তরফে উপস্থিত ছিলেন পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার। সূত্রের খবর, সেখানেই NCPI সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলতে দেখা যায় রাজীবকে। কাকলী নিজের ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করেছেন। যেখানে পাশাপাশি দেখাও গিয়েছে রাজীবকে। পালা বদলের পর তৃণমূল যখন পুরো ধসে যেতে শুরু করে সেই সময় রাজীব কুমারের অবস্থান নিয়ে জল্পনা ছড়াতে শুরু করে।
কারণ, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে তৃণমূলের কোনও কর্মসূচিতেও দেখে যায়নি তাঁকে। তবে সেই নিঃস্তব্ধতা ভেঙে তৃণমূলের শহিদ দিবসে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমার। পৌঁছে যান মমতার সভায়।এই আইপিএস অফিসারের সঙ্গে বরাবরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুসম্পর্ক রয়েছে তা সর্বজনবিদিত। তিনি এ রাজ্যের প্রাক্তন ডিজিপি। এছাড়াও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন।

