১২ বছরেও ফেরেনি আড়াই কোটি টাকার ঋণ! ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপে কালিয়াগঞ্জ পৌরসভা, পুলিশের দ্বারস্থ প্রশাসন

তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ:দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার অধীনস্থ স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির সদস্যদের নেওয়া প্রায় আড়াই কোটি টাকার ঋণ অনাদায়ী পড়ে রয়েছে। ফলে আর্থিক সংকটে পড়েছে পৌরসভার অধীনস্থ স্বর্ণময়ী স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং শ্রীমতী মহাসংঘ। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী সদস্যরাও নিজেদের জমাকৃত অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না এবং নতুন ঋণের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। এবার এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান বিজেপি পরিচালিত পৌর বোর্ড।

পৌরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৪৫০টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য বিভিন্ন সময়ে স্বনিযুক্তি প্রকল্পের আওতায় ২০ হাজার টাকা থেকে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বল্প সুদে ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে বহু ঋণগ্রহীতা সেই ঋণের অর্থ পরিশোধ না করায় মোট বকেয়ার পরিমাণ প্রায় আড়াই কোটি টাকায় পৌঁছেছে।পৌরসভার একাংশের দাবি, অতীতের পৌর বোর্ড ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এই সমস্যা ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করেছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রাক্তন পৌর বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।দীর্ঘদিন ধরে ঋণের টাকা ফেরত না আসায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সেই সব সদস্য, যাঁরা নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করেছেন। কারণ, গোষ্ঠীর মূল ঋণ সম্পূর্ণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত অন্যান্য সদস্যরাও তাঁদের সঞ্চিত অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে নতুন ঋণ এবং সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকেও তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন।এই পরিস্থিতিতে ঋণ আদায়ে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে কালিয়াগঞ্জ পৌরসভা। পৌরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ঋণখেলাপিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বকেয়া ঋণ আদায়ে পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে কালিয়াগঞ্জ থানায় লিখিত আবেদন করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় ঋণখেলাপিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঋণ পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানা গিয়েছে।পৌর কর্তৃপক্ষের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ ঋণ অনাদায়ী থাকায় স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির আর্থিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে নতুন উদ্যোক্তারা সরকারি স্বনিযুক্তি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই ঋণ পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে গোষ্ঠীগুলির আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পুনরায় ঋণের সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই বর্তমান পৌর বোর্ডের প্রধান লক্ষ্য।এখন দেখার, পৌরসভার এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিনের বকেয়া ঋণ কতটা আদায় হয় এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির আর্থিক সংকট কত দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়।