অশ্রুসজল বিদায়ে আবেগঘন ফতেপুর চৈতন্য দায়িনী উচ্চ বিদ্যালয়, প্রধান শিক্ষক প্রসূন দাসকে  শ্রদ্ধা জানাল প্রায় দুই হাজার পড়ুয়া

তপন চক্রবর্তী কালিয়াগঞ্জ একজন শিক্ষক শুধু পাঠদানই করেন না, তিনি হয়ে ওঠেন ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবক, পথপ্রদর্শক ও প্রেরণার উৎস। আর সেই প্রিয় শিক্ষকের বিদায়বেলায় আবেগে ভেসে গেল কালিয়াগঞ্জ ব্লকের ফতেপুর চৈতন্য দায়িনী উচ্চ বিদ্যালয়।

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রসূন দাসকে চোখের জলে বিদায় জানালেন ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অশিক্ষক কর্মচারী এবং এলাকার অসংখ্য মানুষ।গত ৩১ মে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করেন প্রসূন দাস। তবে বিদ্যালয়ে গ্রীষ্মকালীন ছুটি থাকায় সেই সময় বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন সম্ভব হয়নি।

বুধবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয় এক আবেগঘন বিদায় অনুষ্ঠান।সকালে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতেই প্রায় দুই হাজার ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীরা ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে তাঁকে বরণ করে নেন। বিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বার থেকে মঞ্চ পর্যন্ত তৈরি হয় ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এক অনন্য পথ। করতালি আর আবেগঘন মুহূর্তের মধ্য দিয়ে তাঁকে মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়।অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীরা আবৃত্তি, সংগীত ও স্মৃতিচারণের মাধ্যমে তাঁদের প্রিয় প্রধান শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এক ছাত্র নিজের হাতে আঁকা প্রসূন দাসের প্রতিকৃতি তাঁর হাতে তুলে দিলে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। সেই মুহূর্তে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীদের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে একটাই কথা—প্রসূন দাস ছিলেন অত্যন্ত সাদামাটা, নিরহংকারী এবং মানবিক একজন মানুষ। প্রধান শিক্ষক হিসেবে কখনও ক্ষমতার আসনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেননি; বরং ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক এবং এলাকার মানুষের পাশে থেকেছেন একজন অভিভাবকের মতো।বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খেলারাম সরকার বলেন,“প্রসূনবাবু ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রকৃত দরদী মানুষ। ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও গ্রামবাসীদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা ছিল অসাধারণ। তাঁর অবসর আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।“অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক প্রভাস সরকার-সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরাও।বিদায়ী প্রধান শিক্ষক প্রসূন দাস অশ্রুসজল নয়নে বলেন,“আমি কখনও নিজেকে প্রধান শিক্ষক বলে ভাবিনি। আমি সবসময় ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবক হিসেবেই তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। তাদের সমস্যা শুনেছি, সমাধানের চেষ্টা করেছি। বিদ্যালয়ের কিছু সমস্যা এখনও রয়ে গেছে, বিশেষ করে জল জমার সমস্যা এবং শিক্ষক সংকট। আশা করি ভবিষ্যতে সকলের সহযোগিতায় এই সমস্যাগুলির সমাধান হবে।“তিনি আরও বলেন,“এই বিদ্যালয়কে আমি আমার প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবেসেছি। অবসর নিলেও সুযোগ পেলেই বিদ্যালয়ে আসব। বিদ্যালয়ের উন্নতির খবর শুনলে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পাব। এই বিদ্যালয়ের সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক, যা কোনোদিন শেষ হবে না।“প্রিয় প্রধান শিক্ষকের বিদায়বেলায় ছাত্রছাত্রীদের চোখের জল যেন প্রমাণ করে দিল—একজন আদর্শ শিক্ষক কখনও অবসর নেন না, তিনি বেঁচে থাকেন তাঁর ছাত্রছাত্রীদের হৃদয়ে, ভালোবাসায় এবং স্মৃতিতে।