‘ঘর নয়, ফেরত চাই টাকা’— কাটমানির অভিযোগে পুষ্পার বাড়িতে ডিম–কাদা, চাঞ্চল্য রায়গঞ্জে

 তন্ময় চক্রবর্তী প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রায়গঞ্জের তুষলীপাড়া এলাকা।

অভিযুক্ত এক প্রাক্তন তৃণমূল নেত্রীর বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভে সামিল হন বহু গ্রামবাসী। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভোটের আগে এলাকার বহু দরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন কেটে গেলেও তারা আবাস যোজনার ঘর পাননি, এমনকি দেওয়া টাকাও ফেরত মেলেনি।সকালে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা অভিযুক্ত প্রাক্তন নেত্রীর বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, আবাস প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে টাকা আদায় করা হয়েছে। অথচ প্রকল্পের সুবিধা তো দূরের কথা, কোনও সরকারি সাহায্যও তারা পাননি।বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কয়েকজন জানান, কেউ ২০ হাজার, কেউ ২৫ হাজার, আবার কেউ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়েছিলেন।

 

সেই টাকা ধার করে বা জমি বিক্রি করেও জোগাড় করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে যাওয়ার পরও কোনও ফল না মেলায় তাঁদের ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে।অভিযুক্ত প্রাক্তন নেত্রীর দাবি, তিনি কারও কাছ থেকে জোর করে টাকা নেননি এবং অভিযোগের অনেকটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা সেই দাবি মানতে নারাজ।

 

তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছায় পুলিশ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও পুলিশি হস্তক্ষেপে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির দাবি, সরকারি প্রকল্পের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। অন্যদিকে শাসক দলের পক্ষ থেকে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।টাকা ফেরতের দাবিতে গ্রামবাসীদের এই বিক্ষোভ এখন রায়গঞ্জের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের তদন্তে শেষ পর্যন্ত কী সত্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর সকলের।