“অন্ধকারে কালিয়াগঞ্জ তৃণমূল কার্যালয়! বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন দলীয় অফিসে প্রশ্ন—ফিরবে কি আর রাজনৈতিক আলো?”

তন্ময় চক্রবর্তী  :-একসময় যেখানে দলীয় কর্মীদের ভিড়ে সরগরম থাকত কালিয়াগঞ্জ তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়, আজ সেই কার্যালয়ই দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে তালাবন্ধ অবস্থায়।

 

শুধু বন্ধ দরজা নয়, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় কার্যত অন্ধকারে ডুবে রয়েছে তৃণমূলের এই দলীয় কার্যালয়।

আর এই ঘটনাকে ঘিরেই দলের অন্দরে শুরু হয়েছে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সুর।জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুতের বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যুৎ দপ্তরের পক্ষ থেকে কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের এই কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ সরাসরি নিজস্ব মিটার থেকে নয়, পাশের একটি ক্লাবের লাইন থেকে নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিনের বকেয়া বিলের কারণে শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎ দপ্তর সেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।এরপর থেকেই কার্যত অন্ধকারে পড়ে রয়েছে কালিয়াগঞ্জ তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়। দিনের পর দিন বন্ধ থাকা এই কার্যালয় নিয়ে এখন নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে হতাশা ও ক্ষোভ।তৃণমূলের একাংশ কর্মীদের প্রশ্ন, “যে কার্যালয় থেকে এতদিন দলের কর্মসূচি, আন্দোলন এবং সাংগঠনিক কাজ পরিচালিত হয়েছে, সেটাই যদি এভাবে বন্ধ হয়ে থাকে, তাহলে আগামী দিনে দলের সংগঠন কীভাবে চলবে?”এখনও পর্যন্ত কার্যালয় পুনরায় খোলার বিষয়ে কালিয়াগঞ্জ শহর তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের তরফে কোনও স্পষ্ট উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ কর্মীদের একাংশের। ফলে তথাকথিত ‘যুবরাজের সৈনিক’ হিসেবে পরিচিত নেতাদের ভূমিকা নিয়েও দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।দলের অনেক পুরনো কর্মীর দাবি, শুধুমাত্র নির্বাচনের সময় নয়, সংগঠনকে শক্তিশালী রাখতে নিয়মিত দলীয় কার্যালয় চালু থাকা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বর্তমানে সেই কার্যালয়ই যদি বন্ধ থাকে, তাহলে কর্মীদের মনোবল কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে—সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।এদিকে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। তৃণমূলের বেশ কিছু নেতা-কর্মী ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে চিন্তিত হয়ে নাকি অন্য দলের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন—এমন গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। কখনও বিজেপি নেতৃত্ব, আবার কখনও কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের খবর নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা।যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সরাসরি কোনও নেতা মুখ খোলেননি, তবে কালিয়াগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই আলোচনা—বন্ধ তৃণমূল কার্যালয়ের দরজা কি আবার খুলবে, নাকি এই অন্ধকারই হয়ে উঠবে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতার প্রতীক?আগামী দিনে কালিয়াগঞ্জে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন কোন পথে এগোয়, সেটাই এখন দেখার।