বিজেপি ছাড়ার ঘোষণা রাজ্য মহিলা নেত্রী ষষ্ঠী জয়সওয়ালের, প্রার্থী নির্বাচন ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

তন্ময় চক্রবর্তী, উত্তর দিনাজপুর:বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বিজেপির অন্দরেই তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের ছবি সামনে এল। দলের রাজ্য মহিলা নেত্রী ষষ্ঠী জয়সওয়াল প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিজেপি ছাড়ার ঘোষণা করলেন।প্রায় ১১ বছর ধরে দলের হয়ে একনিষ্ঠভাবে কাজ করার পর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ষষ্ঠী জয়সওয়ালের অভিযোগ, দলের নতুন নেতৃত্ব ও কিছু কর্মী পরিকল্পিতভাবে তাঁকে কোণঠাসা করে রেখেছেন। তাঁর মতে, বর্তমান নেতৃত্ব আর আগের মতো কর্মীদের গুরুত্ব দেয় না এবং পুরনো কর্মীদের প্রতি অবজ্ঞার মনোভাব দেখাচ্ছে।তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান নেতৃত্ব সমাজে বিভাজনের রাজনীতি করতে ব্যস্ত এবং হিন্দু-মুসলিম ইস্যুকে সামনে এনে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, যা তিনি সমর্থন করেন না।কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী নির্বাচন নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

বালুরঘাটের উৎপল মহারাজ (স্বামী জ্যোতির্ময়ানন্দ)-কে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করে ষষ্ঠী জয়সওয়াল বলেন, একজন সম্মানিত ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের পক্ষে এভাবে ভোট চাওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক। তাঁর মতে, যখন স্থানীয় যোগ্য নেতা রয়েছেন, তখন বহিরাগত প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হয়নি।এছাড়াও তিনি বর্তমান প্রার্থীর সঙ্গে প্রাক্তন বিধায়ক সৌমেন রায়ের তুলনা টেনে বলেন, আগেও বহিরাগত প্রার্থী জিতে এসে এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছেন। একই পরিস্থিতি এবারও হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দিয়ে ষষ্ঠী জয়সওয়াল বলেন, নির্বাচন ছাড়া সাধারণ কর্মীদের কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয় না। দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করলেও সেই অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ তাঁর।এই ঘটনার পর কালিয়াগঞ্জে বিজেপির অন্দরে ভাঙনের ইঙ্গিত মিলছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে। নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে জেলাজুড়ে।