নিশ্চিন্ত থাকুন, নাম কাটবে না—প্রশাসনের বার্তায় আতঙ্কমুক্ত চা-বাগান এলাকা
দেবব্রত চক্রবর্তী ইসলামপুর :-ভোটার তালিকা নিয়ে দুশ্চিন্তার দিন শেষ। প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখার বার্তাই উত্তর দিনাজপুরের জেলাবাসীর কাছে পৌঁছে দিলেন জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মিনা। শনিবার চোপড়া ব্লকের মাঝিয়ালী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একাধিক চা-বাগান ও আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্ক দূর করেন তিনি।চোপড়া ব্লকের বেশ কয়েকটি আদিবাসী গ্রামে ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও নথিপত্র সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বহু বাসিন্দার নাম এসআইআর শুনানির আওতায় চলে আসায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

বিশেষ করে ২০০২ সালের পুরনো নথি না থাকায় চা-শ্রমিকদের মধ্যে নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। অনেকের কাছেই আধার ও ভোটার কার্ড থাকলেও নির্দিষ্ট সময়কালের পুরনো নথির অভাব সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছিল।এই পরিস্থিতিতে মাঝিয়ালী এলাকায় বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে জেলাশাসক স্পষ্ট ভাষায় জানান, প্রকৃত ভোটারদের চিহ্নিত করতে ফিল্ড ইনকোয়ারি বা সরেজমিনে তদন্ত করা হবে। যাদের কাছে নির্দিষ্ট ১৩টি নথি নেই, তাদেরও আইনি পথে সহযোগিতা করবে প্রশাসন। তিনি আশ্বাস দেন, কোনো প্রকৃত আদিবাসী ভোটার যেন কোনোভাবেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়েন—এটি প্রশাসন নিশ্চিত করবে।জেলাশাসকের কথায়, “আমরা ফিল্ড ভিজিটের মাধ্যমে নিশ্চিত করব যাতে প্রতিটি জেনুইন ভোটারের নাম তালিকায় থাকে। নথির অভাবে কেউ বঞ্চিত হবেন না।”এদিনের পরিদর্শনে জেলাশাসকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিডিও ও নির্বাচন দপ্তরের আধিকারিকরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেসব বাসিন্দা নথি সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা সরাসরি বিডিও অফিস বা সংশ্লিষ্ট বিএলও-র সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন।প্রশাসনের এই স্পষ্ট বার্তা ও আশ্বাসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন চা-বাগান ও আদিবাসী এলাকার বাসিন্দারা। ভোটাধিকার রক্ষায় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা নতুন করে আস্থা জোগাল উত্তর দিনাজপুর জেলাবাসীর মনে।
