সাইকেলে চেপেই শহর পরিদর্শনে জেলা শাসক! আচমকা বাজার–হোটেলে ডিএমের হানা, কড়া বার্তা ব্যবসায়ীদের
বিনোদ কুমার রুংটা, উত্তর দিনাজপুর সাইকেলে চেপে আচমকাই কালিয়াগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শনে বেরিয়ে পড়লেন উত্তর দিনাজপুরের জেলা শাসক ড. অভিজিৎ শেওয়ালে। তাঁর এই আকস্মিক পরিদর্শন ঘিরে মুহূর্তের মধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে শহরের বাজার, দোকানপাট, হোটেল ও রেস্তোরাঁয়। জেলা শাসকের সঙ্গে ছিলেন এসডিও তন্ময় মুখার্জি, বিডিও লক্ষ্মীকান্ত রায়, এসডিপিও জামান এবং থানার আইসি অভিজিৎ দত্ত–সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা।

উৎসবের মরশুমের আগে বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ, নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগের ব্যবহার বন্ধ এবং খাদ্যসামগ্রীর গুণমান ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ অভিযান বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।পরিদর্শনের শুরুতেই জেলা শাসক পৌঁছে যান কালিয়াগঞ্জের প্রধান সবজি বাজার ও ফলের বাজারে। সাম্প্রতিক সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বিভিন্ন দোকানে গিয়ে প্রাইস লিস্ট এবং পণ্যের বিক্রয়মূল্য খতিয়ে দেখেন তিনি।ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে জেলা শাসক স্পষ্ট বার্তা দেন—নির্ধারিত দামের তুলনায় বেশি দামে পণ্য বিক্রি কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।প্রশাসনের আধিকারিকদেরও বাজারদরের উপর নিয়মিত নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেন জেলা শাসক।এরপর শহরের বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং মিষ্টির দোকানে পৌঁছে যান জেলা শাসক। শুধু বাইরে থেকে পরিস্থিতি দেখেই থেমে থাকেননি তিনি—সরাসরি ঢুকে পড়েন রান্নাঘরে। সেখানে খাবার তৈরির পরিবেশ, পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা, ব্যবহৃত সামগ্রীর গুণমান এবং খাদ্য নিরাপত্তার মান খতিয়ে দেখেন।কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি এবং পুরনো খাবার নজরে আসায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকদের উদ্দেশে তাঁর কড়া বার্তা, গ্রাহকদের খাবারের গুণমান ও নিরাপত্তার সঙ্গে কোনওরকম আপস করা যাবে না।ফুড সেফটি আধিকারিকদের নিয়মিত খাবারের নমুনা সংগ্রহ এবং নিয়মভঙ্গকারী প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল সিঙ্গল–ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করা। পরিদর্শনের সময় বেশ কয়েকটি দোকান ও বাজারে নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগ ব্যবহার করতে দেখা যায়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্লাস্টিক ব্যাগ জব্দ করা হয়।ব্যবসায়ী ও ক্রেতা—উভয়ের কাছেই প্লাস্টিকের পরিবর্তে কাপড় ও জুটের ব্যাগ ব্যবহারের আবেদন জানান জেলা শাসক। নিষিদ্ধ প্লাস্টিক মজুত বা বিক্রি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানা–সহ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।জেলা শাসকের এই আচমকা পরিদর্শনে স্বাভাবিকভাবেই নড়েচড়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই প্রশাসনিক তৎপরতাকে ঘিরে দেখা দিয়েছে স্বস্তি।স্থানীয়দের মতে, উৎসবের আগে এ ধরনের নজরদারি অব্যাহত থাকলে বাজারে অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি, খাদ্যে অনিয়ম এবং নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের ব্যবহার—তিন ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব হবে।জেলা প্রশাসনের এই অভিযান থেকে আপাতত পরিষ্কার—কালিয়াগঞ্জের বাজারে অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না, আর সাধারণ মানুষের স্বার্থে প্রশাসনের নজর থাকবে সরাসরি মাঠে।
