“সন্দেহজনক চলাফেরা, তারপর তল্লাশি—ডালখোলায় দুই মহিলার ব্যাগে ১১ কেজি গাঁজা! কোটি টাকার পাচারচক্রের যোগ খুঁজছে পুলিশ”
উত্তর দিনাজপুর জেলার ডালখোলায় বিশেষ অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। গোপন নজরদারি ও নিয়মিত তল্লাশি অভিযানের মধ্যেই সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করা দুই মহিলাকে আটক করে ডালখোলা থানার পুলিশ। এরপর তাঁদের কাছে থাকা ব্যাগ তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে চক্ষু চড়কগাছ করা তথ্য—উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ গাঁজা। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত দুই মহিলা শিলিগুড়ির দিক থেকে ডালখোলার দিকে আসছিলেন।

রাস্তায় তাঁদের আচরণ ও গতিবিধি পুলিশের নজরে পড়ে। কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে কথাবার্তায় অসংগতি ধরা পড়তেই শুরু হয় বিস্তারিত তল্লাশি।তল্লাশির সময় ওই দুই মহিলার কাছে থাকা ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ১১ কেজি গাঁজা। পুলিশ সূত্রের দাবি, উদ্ধার হওয়া এই মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকা হতে পারে। এত বড় পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার হওয়ায় তদন্তকারীদের অনুমান, এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নয়, বরং সুপরিকল্পিত পাচারচক্রের অংশ হিসেবেই পরিবহণ করা হচ্ছিল।পুলিশ সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধার হওয়া গাঁজা বাজেয়াপ্ত করে এবং অভিযুক্ত দুই মহিলাকে গ্রেপ্তার করে ডালখোলা থানায় নিয়ে যায়। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, শিলিগুড়ি থেকে অন্য কোনো জেলায় বা রাজ্যের নির্দিষ্ট গন্তব্যে এই মাদক পাচারের পরিকল্পনা ছিল। তবে এই চক্রের পেছনে আরও বড় কোনো নেটওয়ার্ক কাজ করছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদক সরবরাহের উৎস, সম্ভাব্য ক্রেতা এবং পাচারচক্রের মূল মাথাদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে পুলিশ।স্থানীয়দের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সড়ক ও সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচারের প্রবণতা বাড়ছে। ফলে পুলিশের এই সাফল্যকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো ঘটনার পেছনের আসল চিত্র স্পষ্ট হবে না বলেই মত পুলিশের।এখন নজর, জেরায় আর কী কী তথ্য উঠে আসে এবং এই বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনায় নতুন কোনো বড় নাম সামনে আসে কি না।
![]()
