লক্ষ্মীর ভান্ডার বাড়ল, কিন্তু ভাতা বাড়ল না—ক্ষুব্ধ প্রতিবন্ধী ও লোকশিল্পীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি:পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাম্প্রতিক বাজেটে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে মাসিক অনুদান বাড়ানোর ঘোষণায় রাজ্যজুড়ে গ্রাম ও শহরের মহিলাদের মধ্যে ব্যাপক খুশি ও স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। সংসারেরনিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সামলাতে এই বাড়তি অর্থ বড় সহায়ক হবে বলে মত বহু উপভোক্তার। তবে একই সঙ্গে এই বাজেটে প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা ও লোকশিল্পী ভাতার কোনও বৃদ্ধি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ ও হতাশ সেই সমস্ত ভাতা-নির্ভর অসংখ্য সাধারণ মানুষ।কালিয়াগঞ্জের বাসিন্দা গৃহবধূ সুনিতা দাস বলেন,“লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা বাড়ায় আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকটা উপকার হবে।

বাজারদর যেভাবে বাড়ছে, সেখানে এই সিদ্ধান্ত সত্যিই স্বস্তির।”রায়গঞ্জ শহরের কর্মজীবী মহিলা মিতালি সরকার-এর কথায়,“মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতার দিকে সরকার যে গুরুত্ব দিচ্ছে, সেটা খুবই ইতিবাচক। এই টাকা দিয়ে অন্তত নিজের ছোটখাটো প্রয়োজন মেটানো যায়।”কিন্তু অন্যদিকে, বাজেটের এই দিকটি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন ভাতা-বঞ্চিত মানুষজন। প্রতিবন্ধী ভাতা প্রাপক রবীন্দ্রনাথ কর্মকার (কালিয়াগঞ্জ) বলেন,“সবকিছুর দাম বেড়েছে, অথচ আমাদের ভাতায় এক টাকাও বাড়ল না। আমাদেরও তো সংসার আছে, ওষুধ আছে। আমরা কি তবে পিছনেই পড়ে থাকব?”বিধবা ভাতা প্রাপক মাধবী রায় (ইসলামপুর) ক্ষোভের সঙ্গে জানান,“লক্ষ্মীর ভান্ডার বাড়ানো ভালো সিদ্ধান্ত, কিন্তু বিধবা ভাতার কথা একেবারেই ভাবা হলো না। আমাদের আয়ের আর কোনও রাস্তা নেই।”লোকশিল্পী ভাতা প্রাপক, বাউল শিল্পী নিত্যানন্দ পাল বলেন,“লোকশিল্প বাঁচিয়ে রাখার কথা সবাই বলে, কিন্তু ভাতা বাড়ানো হলো না। এতে শিল্পীদের মনোবল ভেঙে যাচ্ছে।”সামগ্রিকভাবে এবারের বাজেট একদিকে যেমন লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মহিলার মুখে হাসি ফুটিয়েছে, তেমনই অন্যদিকে প্রতিবন্ধী, বিধবা ও লোকশিল্পী ভাতা প্রাপকদের মধ্যে তৈরি করেছে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ। সাধারণ মানুষের একাংশের দাবি, আগামী দিনে সরকার যেন সব শ্রেণির মানুষের দিকেই সমান নজর দেয় এবং বঞ্চিতদের দাবিগুলিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে।