রায়গঞ্জে CII নর্থ বেঙ্গল এন্টারপ্রেনারশিপ ফোরাম ২০২৬: শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা, ভুট্টা প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে জোর
তন্ময় চক্রবর্তী :- উত্তরবঙ্গের শিল্প ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনাকে নতুন দিশা দেখাতে বৃহস্পতিবার উত্তর দিনাজপুর জেলার Raiganj শহরে অনুষ্ঠিত হল CII নর্থ বেঙ্গল এন্টারপ্রেনারশিপ ফোরাম ২০২৬। দেশের অন্যতম শিল্প সংগঠন Confederation of Indian Industry (CII)–এর নর্থ বেঙ্গল জোনাল ব্রাঞ্চের উদ্যোগে এবং Raiganj Merchants Association–এর সহযোগিতায় শহরের বাণিজ্য ভবনে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।এই ফোরামের মূল লক্ষ্য ছিল উত্তরবঙ্গের তিন জেলা—উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদার শিল্প ও ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করা এবং বিশেষ করে MSME (মাইক্রো, স্মল ও মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ) খাতের বিকাশে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করা।
শিল্পায়নের সম্ভাবনা বৃদ্ধি, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছেন আয়োজকরা।অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে বক্তারা জানান, উত্তরবঙ্গের এই তিন জেলায় কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত শিল্প পরিকাঠামো এখনও গড়ে ওঠেনি। তাই শিল্পপতি, শিক্ষাবিদ, প্রশাসনিক প্রতিনিধি এবং ব্যাংকিং ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের এক মঞ্চে এনে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতের শিল্পায়নের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে।আয়োজকদের মতে, দেশের অর্থনীতিতে MSME খাত বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা, নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং শিল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলার মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।ফোরামের আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসে উত্তরবঙ্গের কৃষিভিত্তিক শিল্পের সম্ভাবনা, বিশেষ করে ভুট্টা প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তোলার বিষয়টি। বক্তারা জানান, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদা জেলায় বিপুল পরিমাণে ভুট্টা উৎপাদন হয়। কিন্তু সেই ভুট্টাকে কেন্দ্র করে বড় শিল্প গড়ে ওঠেনি। ফলে কৃষকরা অনেক সময় ন্যায্য মূল্য পান না।

এই অঞ্চলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ভুট্টা প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে উঠলে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।আলোচনায় আরও উঠে আসে, বর্তমানে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, পশুখাদ্য, স্টার্চ, কর্ন অয়েলসহ বিভিন্ন শিল্পে ভুট্টার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তাই উত্তরবঙ্গের কৃষিপ্রধান এলাকায় এই শিল্পের প্রসার ঘটানো গেলে আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

সভার একাধিক বক্তা বলেন, শিল্প গড়ে তুলতে গেলে শুধু কাঁচামাল থাকলেই হয় না, তার সঙ্গে উন্নত পরিকাঠামো, দক্ষ জনশক্তি এবং পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তাও প্রয়োজন। সেই কারণে শিল্প সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।এদিনের আলোচনায় দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ–এর উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। উদ্যোক্তাদের মতে, নতুন প্রজন্মের তরুণদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দিলে তারা সহজেই আধুনিক শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।
পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইন ব্যবসার সুযোগকে কাজে লাগানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়।ফোরামে উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদা জেলার বহু শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরে বলেন, এই ধরনের প্ল্যাটফর্ম উদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়াতে এবং নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।অনুষ্ঠানের শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের MSME খাত আরও শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
পাশাপাশি স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির উন্নয়নেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।প্রসঙ্গত, এই ফোরামের আলোচনার মধ্য দিয়ে উত্তরবঙ্গের শিল্প ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে গেল বলেই মত উপস্থিত শিল্পপতি ও উদ্যোক্তাদের।
