রাধিকাপুর-বেঙ্গালুরু সরাসরি ট্রেন: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে কি তুরুপের তাস হতে চলেছে উত্তর দিনাজপুরে?
তন্ময় চক্রবর্তী উত্তর দিনাজপুর: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই উত্তর দিনাজপুরের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করল রাধিকাপুর-বেঙ্গালুরু সরাসরি সাপ্তাহিক এক্সপ্রেস ট্রেন। শনিবার, ১৭ জানুয়ারি মালদহ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ট্রেনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার পর থেকেই রায়গঞ্জ ও কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় আসন্ন নির্বাচনে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।উন্নয়নের রাজনীতি বনাম দীর্ঘদিনের দাবি:কালিয়াগঞ্জ ও রায়গঞ্জ—এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রেই রেল যোগাযোগ একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ইস্যু। রাধিকাপুর স্টেশনে ৫২.৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পিট লাইন’ ও ‘সিক লাইন’ তৈরির অনুমোদনের পর এই ট্রেন চালু হওয়াকে বিজেপি তাদের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পালের হাত ধরে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ায় গেরুয়া শিবির আসন্ন ভোটে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার আশায় রয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ট্রেন চালুর মাধ্যমে বিজেপি সাধারণ মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে যে, তারা প্রতিশ্রুতি পূরণে বদ্ধপরিকর।যাতায়াতের সুফল ও ভোটব্যাঙ্কের সমীকরণ:উত্তর দিনাজপুরের একটি বড় অংশের মানুষ কাজের সন্ধানে বা চিকিৎসার প্রয়োজনে দক্ষিণ ভারতের বেঙ্গালুরু, চেন্নাই বা হায়দ্রাবাদে যান। এতদিন তাদের মালদহ বা কিষাণগঞ্জ থেকে ট্রেন ধরতে হতো। সরাসরি ট্রেন চালু হওয়ায় খুশি পরিযায়ী শ্রমিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। এই খুশির প্রতিফলন ইভিএম-এ পড়বে কি না, তা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। বিশেষ করে কালিয়াগঞ্জের মতো সীমান্ত এলাকায় যেখানে রেলের উন্নয়ন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাথে যুক্ত, সেখানে এটি একটি বড় ফ্যাক্টর হতে পারে।পাল্টা চালে তৃণমূল ও বিরোধী পক্ষ:অন্যদিকে, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের লড়াই এবং রাজ্যের পরিকাঠামোগত সহায়তার ফলেই এই উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে। ভোটের মুখে নতুন ট্রেন চালু করাকে তারা বিজেপির ‘নির্বাচনী চমক’ হিসেবেও দাগিয়ে দিচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই নতুন ট্রেনের জনপ্রিয়তা যে কোনো দলের পক্ষেই আশার বা আশঙ্কার কারণ হতে পারে।নির্বাচনী প্রভাব:২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির লিড ছিল। ২০২৬-এ সেই জমি ধরে রাখতে এই ট্রেন পরিষেবা বিজেপির জন্য বড় অস্ত্র। তবে সাধারণ ভোটাররা শেষ পর্যন্ত উন্নয়নের নিরিখে ভোট দেবেন নাকি অন্য কোনো আঞ্চলিক ইস্যু প্রধান হয়ে উঠবে, সেটাই দেখার। রেলের এই নতুন উপহার কালিয়াগঞ্জ ও রায়গঞ্জের রাজনীতির ট্র্যাকে ভোট কোন দিকে ঘোরায়, তার উত্তর মিলবে বিধানসভা ভোটের ফলাফলেই





