“মায়ের নামে একটি গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান” — রায়গঞ্জে সাংসদ কার্তিক পালের আবেগঘন আহ্বান, কাটমানি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা
তন্ময় চক্রবর্তী “যেভাবে চারদিকে নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে, তাতে প্রকৃতির ভারসাম্য মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে। শুধু গাছ কাটার বিরুদ্ধে কথা বললেই হবে না, প্রত্যেককে এগিয়ে এসে গাছ লাগাতে হবে। আগামী ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস থেকে প্রত্যেকে নিজের মায়ের নামে অন্তত একটি করে গাছ লাগান।” — রায়গঞ্জে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমনই আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন রায়গঞ্জের সাংসদ Kartick Chandra Pal।

সাংসদ বলেন, পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নে এখন আর দেরি করার সুযোগ নেই। প্রতিদিন যেভাবে অবৈধভাবে গাছ কাটা হচ্ছে, তাতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও প্রকট হচ্ছে। একসময় প্রচলিত ছিল “একটি গাছ, একটি প্রাণ” — কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রবাদই যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর আবেদন, “গাছ কাটা নয়, গাছ লাগানোর আন্দোলন গড়ে তুলুন। প্রকৃতির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে প্রত্যেক পরিবারকে এগিয়ে আসতে হবে।”সাংবাদিক সম্মেলনে সাংসদ কার্তিক পাল দেশের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র নেতৃত্বেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ১১ বছরের সুশাসন ভারতের উন্নয়নের নতুন দিশা দেখিয়েছে। সাধারণ মানুষের কল্যাণে একের পর এক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় বিভিন্ন মন্দিরে বিশেষ পূজা-অর্চনার আয়োজন করা হচ্ছে।”এদিন উত্তর দিনাজপুর জেলার উন্নয়ন প্রসঙ্গেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন সাংসদ। তিনি জানান, মালদহে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জেলার দীর্ঘদিনের বেশ কিছু দাবি মঞ্জুর করেছেন। এজন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানান।কার্তিক পাল বলেন, “প্রশাসনিক বৈঠকের ফলেই কালিয়াগঞ্জে মহিলা কলেজ স্থাপনের অনুমোদন মিলেছে। একইসঙ্গে হেমতাবাদে নতুন কলেজ এবং রায়গঞ্জে আইন কলেজ প্রতিষ্ঠার পথও সুগম হয়েছে। এগুলি জেলার শিক্ষা ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।”তিনি আরও জানান, রায়গঞ্জের বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী Kaushik Chowdhury-র উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত উন্নয়নও হয়েছে। কালিয়াগঞ্জ দমকল কেন্দ্রের পরিকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি রায়গঞ্জ দমকল কেন্দ্রেরও উন্নয়ন ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।সাংবাদিক সম্মেলনে দুর্নীতি ও কাটমানি ইস্যুতেও অত্যন্ত কড়া অবস্থান নেন সাংসদ। তিনি বলেন, “আগের সরকার আর বর্তমান সরকারের মধ্যে মূল পার্থক্য একটাই— আগে ছিল শাসকের আইন, আর এখন হয়েছে আইনের শাসন।”তিনি সাধারণ মানুষের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে বলেন, “কেউ যদি কোনো সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি দাবি করে কিংবা কোনো সরকারি কর্মচারী অবৈধভাবে টাকা নিয়ে কাজ করে, তাহলে সেই ব্যক্তিদের নাম আমাদের জানান। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”একইসঙ্গে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “আমাদের নাম ভাঙিয়ে যদি কেউ অবৈধ কাজ করার চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধেও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।”আসন্ন ১৫ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে অনুষ্ঠিত হতে চলা ‘জনকল্যাণ শিবির’-এর বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য দেন সাংসদ। তিনি বলেন, “রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়, সেই লক্ষ্যেই এই শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে।”
তিনি জানান, কৃষকরা এই শিবিরে গিয়ে বিভিন্ন কৃষি-সংক্রান্ত সুবিধা ও সরকারি প্রকল্পের তথ্য পাবেন। পাশাপাশি Ayushman Bharat এবং অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার-সহ একাধিক প্রকল্পের আবেদনপত্র পূরণের সুযোগও থাকবে।এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উত্তর দিনাজপুর জেলা বিজেপির সভাপতি Nimai Kabiraj সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব।পরিবেশ রক্ষা থেকে শুরু করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান, জেলার উন্নয়নের রূপরেখা এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রচার— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সাংসদ কার্তিক পালের এই সাংবাদিক সম্মেলন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
