​বিজেপির ‘গড়’ চুরমার করতে কোমর বাঁধছে তৃণমূল, কালিয়াগঞ্জে সুজিত সরকারের নেতৃত্বে রণকৌশল চূড়ান্ত

তন্ময় চক্রবর্তী কালিয়াগঞ্জ: সামনেই ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে ‘পাখি চোখ’ করে ঘর গোছাতে ময়দানে নেমে পড়ল উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ শহর তৃণমূল কংগ্রেস।

এক সময় কালিয়াগঞ্জকে বিজেপির ‘শক্ত ঘাঁটি’ হিসেবে গণ্য করা হতো, কিন্তু সেই তকমা মুছে ফেলে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে এবার আটোসাটো রণকৌশল নিচ্ছে ঘাসফুল শিবির।শনিবার কালিয়াগঞ্জ শহর তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংগঠনিক আলোচনা চক্রে সেই তৎপরতাই চোখে পড়ল।

শহর তৃণমূল সভাপতি সুজিত সরকারের নেতৃত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে মূল লক্ষ্য ছিল— সংগঠনকে আরও মজবুত করা এবং সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের নিরিখে সরাসরি মানুষের দুয়ারে পৌঁছানো।এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার পৌরপতি বিজু কুণ্ডু, কালিয়াগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হিরন্ময় সরকার, কালিয়াগঞ্জ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের কনভেনার নিতাই বৈশ্য ,প্রাক্তন বিধায়ক তপন দেব সিংহ, পৌরসভার প্রাক্তন উপ-পৌরপতি ঈশ্বর রজক এবং কালিয়াগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভানেত্রী দীপা সরকার সহ শহর তৃণমূলের একঝাঁক নেতৃত্ব। মূলত বুথ স্তরে সংগঠনের ফাটল মেরামত করা এবং মহিলা ভোটারদের কাছে দলের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।আলোচনা সভায় শহর সভাপতি সুজিত সরকার বলেন, “আমরা কোনো ফাঁক রাখতে চাই না। কালিয়াগঞ্জ আর কারও গড় নয়, কালিয়াগঞ্জ উন্নয়নের গড়। আমাদের কর্মীরা এখন থেকেই প্রতিটি বাড়িতে যাবেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের সুফল মানুষের সামনে তুলে ধরবেন।” অন্যদিকে, পৌরপতি বিজু কুণ্ডু জানান, উন্নয়নের নিরিখে মানুষ তৃণমূলের পাশেই আছে, শুধু প্রয়োজন সঠিক জনসংযোগের।এদিন শহর  তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকে আয়োজিত এই আলোচনা সভাটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। সভাতে উপস্থিত মহিলা কর্মীদের উদ্দেশ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়, যেন তাঁরা পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে মহিলাদের অভাব-অভিযোগ শোনেন এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সহ অন্যান্য প্রকল্পের উপযোগিতা নিয়ে প্রচার চালান।​রাজনৈতিক মহলের মতে, কালিয়াগঞ্জের হারানো জমি পুনরুদ্ধারে এবং বিরোধীদের রুখতে তৃণমূলের এই ‘মাইক্রো-লেভেল’ পরিকল্পনা আগামী নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে। সব মিলিয়ে, ভোটের বাদ্যি বাজার আগেই কালিয়াগঞ্জে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে