প্রজাতন্ত্র দিবসকে কেন্দ্র করে ইটাহারে উন্নয়ন, সংস্কৃতি ও মানবিকতার ধারাবাহিক কর্মসূচি—জনসংযোগে সক্রিয় বিধায়ক মোশারফ হোসেন
তন্ময় চক্রবর্তী :-৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসকে কেন্দ্র করে ইটাহার জুড়ে একের পর এক ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে জনসংযোগ ও উন্নয়নের বার্তা দিলেন ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন। শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, সমাজসেবা থেকে শুরু করে পরিকাঠামো উন্নয়ন—সব ক্ষেত্রেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা গেল বিধায়ককে।প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে বিধায়কের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ইটাহার হাই স্কুল প্রাঙ্গণে প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে অঙ্কন, আবৃত্তি ও নৃত্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ইটাহারের বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী সকল ছাত্রছাত্রীদের হাতে সার্টিফিকেট ও উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। শিশুদের প্রাণচাঞ্চল্য ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে এই কর্মসূচি অত্যন্ত সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়।এছাড়াও ইটাহার দাসপাড়ায় যুব তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী বিশ্বদ্বীপ সরকারের শুভ বিবাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান বিধায়ক।দুর্গাপুর অঞ্চলের বেকিডাঙ্গায় ক্ষুদিরাম সংঘ ও দুর্গাপুর আজাদ হিন্দ বাহিনীর পরিচালনায় সরস্বতী পূজা ও প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সেবামূলক কর্মসূচি এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরেও অংশ নেন তিনি। পাশাপাশি সুরুন-১ অঞ্চলের গোড়াহার যুব সংঘের উদ্যোগে প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক।জয়হাট অঞ্চলের মাঘিয়াপাড়া ফুটবল মাঠে ASECA বৈদড়া শাখার উদ্যোগে আয়োজিত আদিবাসী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও যোগ দেন বিধায়ক মোশারফ হোসেন।

এই অনুষ্ঠানে আদিবাসী ভাই-বোনদের শিক্ষা, সংস্কৃতি, সমাজ সচেতনতা ও সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাঁদের প্রতিভা ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়।অন্যদিকে, কয়েকদিন আগে পতিরাজপুর অঞ্চলের মুরালি পুকুর গ্রামে বিজেপির মদতপুষ্ট নির্বাচন কমিশনের চাপিয়ে দেওয়া SIR-এর লাগাতার হয়রানি ও মানসিক সন্ত্রাসের শিকার হয়ে চান্দু সরকার (৫০) আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বিধায়ক আবারও তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দিয়ে বিধায়ক জানান, “এই লড়াইয়ে তাঁরা একা নন।”

তিনি মরহুম চান্দু সরকারের আত্মার শান্তি কামনা করেন।সবশেষে ইটাহারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বিধায়ক জানান—“বদলে যাচ্ছে ইটাহার।”মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় এবং বিধায়কের ঐকান্তিক উদ্যোগে ইটাহার অঞ্চলের ঘেড়া মোড় খানসুর চায়ের দোকান থেকে চাকলা ব্রিজ পর্যন্ত ১.৩৭ কিলোমিটার রাস্তা ৫৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পিচ রাস্তার কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়। এই রাস্তা নির্মাণে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও মজবুত হবে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত হবে সহজ ও স্বচ্ছন্দ।উদ্বোধনী সভায় বিপুল জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়। মানুষের ভালোবাসা ও উৎসাহে সভা কার্যত জনজোয়ারে পরিণত হয়।




![]()
