পালাবদলের হাওয়াতেও ইটাহারে ব্যর্থ বিজেপি
📍 ইটাহার: রাজ্যজুড়ে পালাবদলের আবহে একাধিক কেন্দ্রে বিজেপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেলেও ইটাহার বিধানসভায় সেই চিত্র দেখা গেল না। বরং গত নির্বাচনের তুলনায় বিজেপির ভোট সামান্য হলেও কমেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ত্রিমুখী লড়াই এবং এসআইআর ইস্যুই ইটাহারে বিজেপির অঙ্ক গুলিয়ে দিয়েছে।গত বিধানসভা নির্বাচনে ইটাহারে বিজেপি প্রার্থী পেয়েছিলেন ৭০ হাজার ৬৭০ ভোট। তখন মূল লড়াই ছিল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সমীকরণ পুরো বদলে যায়। বিজেপি প্রার্থী সবিতা বর্মনের ঝুলিতে এসেছে ৭০ হাজার ২৯৪ ভোট, অর্থাৎ আগের তুলনায় কমেছে ৩৭৬ ভোট।

অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী মোশারফ হোসেন পেয়েছেন ৯৮ হাজার ১৭২ ভোট। ফলে দুই দলের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৮৭৮ ভোটে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রবেশই ইটাহারের ভোটের অঙ্কে বড় প্রভাব ফেলেছে। কারণ কংগ্রেস প্রার্থী ছিলেন জেলার পরিচিত রাজনৈতিক মুখ তথা দু’বারের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অমল আচার্য। গতবার তৃণমূলের টিকিট না পেয়ে কয়েক মাস আগে কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি এবং প্রার্থী হন। নিজের ব্যক্তিগত প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি ২৮ হাজার ৪৫ ভোট সংগ্রহ করেন।এই ফলাফল সামনে আসতেই বিজেপি শিবিরের একাংশের দাবি, অমল আচার্য মূলত হিন্দু ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় প্রভাব ফেলেছেন। কারণ, তাঁর প্রাপ্ত ভোট এবং বিজেপি-তৃণমূলের ব্যবধান প্রায় সমান। গেরুয়া নেতাদের মতে, এই ভোটের বড় অংশ বিজেপির ঝুলিতে এলে ফল অন্যরকম হতে পারত।এদিকে বিজেপির অন্দরে আরও একটি বিষয় নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে— এসআইআর ইস্যু। দলের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘুদের পাশাপাশি বহু হিন্দু ভোটারের নামও বাদ গিয়েছে। বিজেপির মতে, বাদ পড়া ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশ তাদের সমর্থক ছিলেন। বিশেষ করে মুসলিম অধ্যুষিত বুথগুলিতে বিজেপির সংগঠন দুর্বল থাকায় সেখানে তারা খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি বলেও দাবি দলের।বিজেপি প্রার্থী সবিতা বর্মন বলেন,“জয়ের ব্যবধান দেখলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে কংগ্রেসের প্রার্থী এবং এসআইআর— এই দুই বিষয়ই আমাদের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”যদিও বিজেপির এই অভিযোগ মানতে নারাজ কংগ্রেস। জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হকের বক্তব্য,“কংগ্রেস জাতীয় দল। আমাদের নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে। মানুষ আমাদের সমর্থন করেছেন বলেই আমরা ভালো ভোট পেয়েছি। কে কী বলছে সেটা তাদের বিষয়।”সব মিলিয়ে ইটাহারের ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে, শুধু রাজ্যের হাওয়া নয়— স্থানীয় সমীকরণ, প্রার্থী নির্বাচন এবং ভোট কাটাকাটিও অনেক সময় নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
