দেশ-বিদেশের গবেষকদের মিলনমঞ্চ রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়—প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণার উপর বিশেষ জোর

তন্ময় চক্রবর্তী  :-ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে প্রাচীন জ্ঞানভাণ্ডার সংরক্ষণ ও গবেষণার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিল রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত ও বাংলা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এবং IQAC-এর সহযোগিতায় গত ২০ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী আন্তর্জাতিক কর্মশালা।

 

এই কর্মশালা চলবে আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত।দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত গবেষক, অধ্যাপক এবং ছাত্র-ছাত্রীরা এই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করছেন।

 

   সাত দিনব্যাপী এই কর্মশালায় প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের উপর আলোচনা ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য হলো—প্রাচীন সংস্কৃত ও বাংলা পাণ্ডুলিপি পাঠের কৌশল, তার বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ, এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সম্যক ধারণা দেওয়া।

 

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক পবিত্রভূষণ সরকার,আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মীর রেজাউল করিম,বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় (শান্তিনিকেতন)-এর অধ্যাপক ড. গার্গী ভট্টাচার্য।এছাড়াও এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে উপস্থিত ছিলেন ড. রীতা ভট্টাচার্য ও ড. বন্দনা মুখোপাধ্যায়।অনলাইন মাধ্যমে কর্মশালায় যুক্ত হন বাংলাদেশ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মঞ্জুলা চৌধুরী এবং বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রকাশ কুমার মাইতি।কর্মশালায় মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক দীপক কুমার রায়।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের IQAC ডিরেক্টর অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার মহলা, সংস্কৃত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক স্বপন মাল, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মিলন কুমার রায়, অধ্যাপক সমীর কুমার মণ্ডল, অতনু আড্ড সহ আরও একাধিক বিশিষ্ট অধ্যাপকেরা।IQAC ডিরেক্টর অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার মহলা জানান,“ এই কর্মশালার মাধ্যমে দেশ-বিদেশের গবেষকরা রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন, যা আগামীতে আন্তর্জাতিক স্তরের গবেষকদেরও বিশেষভাবে সাহায্য করবে।প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল ইন্ডিয়ার স্বপ্নের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রশান্ত বাবু বলেন, “বর্তমান সময়ে গবেষকদের শুধু প্রথাগত পদ্ধতিতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, তাঁদের প্রযুক্তি নির্ভর বা টেকনোলজি ডিপেন্ডেন্ট হতে হবে।” সেই উদ্দেশ্যেই এই কর্মশালায় হাতে-কলমে শিক্ষার পাশাপাশি অনলাইন প্রশিক্ষণের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।এই আয়োজনে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও বাংলাদেশ, বিহার, দিল্লি ও বেনারসসহ বিভিন্ন প্রান্তের গবেষকরা অংশ নিয়েছেন। IQAC-এর পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, এই ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ আগামীতে ন্যাক (NAAC) ভিজিটের সময় বিশ্ববিদ্যালয়কে কয়েক ধাপ এগিয়ে রাখবে।এদিন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় উপস্থিত গবেষকেরা জানান এ ধরনের কর্মশালায় আগামীতে তাদের আরো সমৃদ্ধ করবে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে ভীষণ সাহায্য করবে।