“তৃণমূলের সংখ্যালঘু রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা মোশারফ হোসেনের, রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে”

উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে বিধানসভা কিংবা কলকাতার দলীয় কর্মসূচিতে সেভাবে দেখা না যাওয়ায় নানা মহলে প্রশ্ন উঠছিল।

এরই মধ্যে তাঁর পদত্যাগের খবর রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে।রবিবার ইটাহারের চেকপোস্ট সংলগ্ন নিজের বাসভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মোশারফ হোসেন জানান, তিনি এবং তাঁর মা দু’জনেই কিছুদিন ধরে অসুস্থ থাকায় নিয়মিত কলকাতায় যেতে পারছেন না। শারীরিক কারণেই দলীয় ও সাংগঠনিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে সমস্যা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।তবে তাঁর এই পদত্যাগকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের সমীকরণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে এই পদক্ষেপ। যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কোনও স্পষ্ট মন্তব্য করতে চাননি ইটাহারের বিধায়ক।সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মোশারফ হোসেন বলেন,“আমার শারীরিক পরিস্থিতি এবং পারিবারিক কিছু সমস্যার কারণে আগের মতো সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছিল না। সেই কারণেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।”তিনি আরও জানান যে, দলের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উপযুক্ত সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে মোশারফ হোসেনের কিছু মন্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে কোন রাজনৈতিক পথে তিনি হাঁটবেন, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও তিনি স্পষ্টভাবে কোনও নতুন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ঘোষণা করেননি।রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তর দিনাজপুরের রাজনীতিতে মোশারফ হোসেন একজন গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তাই তাঁর পদত্যাগ এবং সাম্প্রতিক মন্তব্য আগামী দিনে জেলার পাশাপাশি রাজ্য রাজনীতিতেও নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত বহন করতে পারে।এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক থেকে সাধারণ মানুষের—মোশারফ হোসেনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে, সেই দিকেই। তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা যত বাড়ছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গন।