তীব্র গরমে জেলাজুড়ে বাড়ছে জ্বর-কাশি-শ্বাসকষ্টের প্রকোপ, রায়গঞ্জ মেডিকেলে রোগীর ঢল—চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা
রায়গঞ্জ, উত্তর দিনাজপুর জেলাজুড়ে আবহাওয়ার চরম খামখেয়ালিপনায় বাড়ছে অসুস্থতার প্রকোপ। কখনও প্রবল বৃষ্টি, কখনও আবার অসহনীয় গরম—এই আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তনের জেরে সর্দি, কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট এবং পেটের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন জেলার বহু মানুষ। শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সের মানুষের মধ্যেই এই ধরনের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। ফলে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশাপাশি রায়গঞ্জ গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালেও প্রতিদিন বাড়ছে রোগীর চাপ।মঙ্গলবার তীব্র গরমের জেরে রায়গঞ্জ গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগে জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও পেট খারাপের মতো উপসর্গ নিয়ে ১২ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।
পাশাপাশি পুরুষ ও মহিলা মেডিসিন বিভাগেও ২০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতালের আউটডোরেও প্রতিদিনই উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রার অস্বাভাবিক ওঠানামা এবং অতিরিক্ত গরমের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকান্ত বিশ্বাস জানান, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণেই মূলত এই ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তবে অধিকাংশ রোগী চিকিৎসার মাধ্যমে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন। তিনি সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।রায়গঞ্জ গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যক্ষ ডা. প্রিয়ঙ্কর রায় এবং মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. অরবিন্দ রায় জানান, বর্তমানে হাসপাতালে জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও পেটের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ধরনের সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। গরমের মধ্যে শরীরে পানিশূন্যতা, ভাইরাল সংক্রমণ এবং আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনের প্রভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে তাঁদের অভিমত।হেমতাবাদের বাসিন্দা সাকিনা বেগম জানান, তাঁর পাঁচ বছরের সন্তান গত দুদিন ধরে জ্বরে ভুগছিল। সোমবার ভোররাতে হঠাৎ প্রবল জ্বরের সঙ্গে কাশি ও শ্বাসকষ্ট শুরু হলে দ্রুত তাকে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে শিশুটি।অন্যদিকে, ইটাহারের বাসিন্দা শেফালী ঘোষ জানান, টানা সাতদিনের প্রচণ্ড গরমে তাঁর স্বামীর জ্বরের পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকেও রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।চিকিৎসকদের মতে, প্রতি বছর গ্রীষ্মের শেষভাগ ও বর্ষার শুরুতে এই ধরনের ভাইরাল জ্বর, সর্দি-কাশি এবং পেটের সংক্রমণ কিছুটা বৃদ্ধি পায়। তবে সময়মতো চিকিৎসা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, নিরাপদ পানীয় জল পান, হালকা খাবার গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে অধিকাংশ রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।তবুও যেভাবে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ঘরে ঘরে জ্বর, কাশি ও পেটের সমস্যার প্রকোপ বাড়ছে এবং হাসপাতালে রোগীর চাপ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। স্বাস্থ্য দপ্তরও পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালাচ্ছে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের আবেদন, অসুস্থতা দেখা দিলে বাড়িতে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে দ্রুত নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।


