কালিয়াগঞ্জে শিল্প-বাণিজ্যের নতুন মাইলফলক! গোদ্রীবাজারে উদ্বোধন হল মাহিন্দ্রা লাস্ট মাইল মোবিলিটির অত্যাধুনিক ই-ভেহিকল শোরুম, কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনায় উচ্ছ্বসিত শহরবাসী

তন্ময় চক্রবর্তী :-উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ শহরের গোদ্রীবাজারে বুধবার এক উৎসবমুখর পরিবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হল S.N. Motors Pvt. Ltd.-এর Mahindra Last Mile Mobility–এর অত্যাধুনিক শোরুম। ফিতা কেটে ও পূজার্চনার মধ্য দিয়ে শুভ সূচনা হয় এই নতুন শোরুমের। উদ্বোধনের দিন থেকেই সাধারণ মানুষের উৎসাহ ও ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।এই শোরুম চালু হওয়ার ফলে কালিয়াগঞ্জ, রায়গঞ্জ, ইটাহার, হেমতাবাদ, বুনিয়াদপুর-সহ উত্তর দিনাজপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ এখন আর বৈদ্যুতিক বাণিজ্যিক গাড়ি কেনা কিংবা সার্ভিসিংয়ের জন্য দূরে যেতে বাধ্য হবেন না। এক ছাদের নিচেই মিলবে বিক্রি, সার্ভিসিং, স্পেয়ার পার্টস, ফিন্যান্সিং এবং বিক্রয়োত্তর পরিষেবার সম্পূর্ণ সুবিধা।

শোরুমের কর্ণধার মনোরঞ্জন দাস জানান, এই শোরুমে Mahindra-র ১৯টি অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক মডেল পাওয়া যাবে। এর মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় Treo, Treo Zor, Zor Grand Electric, UDO, e-Alfa Super-সহ একাধিক যাত্রী ও মালবাহী ই-ভেহিকল।তিনি বলেন, “একবার সম্পূর্ণ চার্জে গাড়ি প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম। মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই ফুল চার্জ হয়ে যায়। গাড়ির গতি, আরাম এবং বহন ক্ষমতা—সব দিক থেকেই এটি বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা বৈদ্যুতিক বাণিজ্যিক যান। যাত্রীরাও এই গাড়িতে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করবেন।”মনোরঞ্জন দাস আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাজার সমীক্ষা চালিয়ে এবং সাধারণ মানুষের চাহিদা যাচাই করার পরই কালিয়াগঞ্জে এই শোরুম খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি শোরুমের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে সেই দাবি পূরণ হওয়ায় তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু গাড়ি বিক্রি নয়, বেকার যুবকদের স্বনির্ভর করে তোলা।

অনেকেরই এককালীন এত টাকা দিয়ে গাড়ি কেনা সম্ভব হয় না। তাই আমরা সহজ শর্তে ফিন্যান্সিংয়ের ব্যবস্থা করেছি, যাতে কম সুদে ঋণ নিয়ে যে কেউ সহজেই নিজের ব্যবসা শুরু করতে পারেন।”উদ্বোধনের বিশেষ দিনে সংস্থার পক্ষ থেকে আকর্ষণীয় অফারেরও ঘোষণা করা হয়। ফলে প্রথম দিনেই একাধিক ক্রেতা শোরুমে ভিড় জমান।উদ্বোধনের দিনই বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা সামেদ আলী নতুন বৈদ্যুতিক টোটো কিনে বাড়ি ফেরেন। তিনি বলেন, “এই গাড়িতে আধুনিক অনেক সুবিধা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এমন একটি গাড়ি কেনার ইচ্ছা ছিল। কালিয়াগঞ্জেই শোরুম হওয়ায় খুব সহজেই গাড়িটি কিনতে পারলাম। আমি অত্যন্ত খুশি।”সংস্থার রায়গঞ্জ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য সন্তু চক্রবর্তী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের ইচ্ছা ছিল কালিয়াগঞ্জে একটি শোরুম চালু করার। কারণ এখানকার মানুষকে ছোটখাটো কাজের জন্যও রায়গঞ্জে যেতে হত। এখন থেকে গাড়ি কেনা, সার্ভিসিং কিংবা যেকোনও পরিষেবাই কালিয়াগঞ্জেই পাওয়া যাবে। এতে সময় যেমন বাঁচবে, তেমনি খরচও কমবে।”তিনি আরও জানান, যাঁদের হাতে এককালীন টাকা নেই, তাঁদের জন্য বিশেষ ফিন্যান্সিং সুবিধা রাখা হয়েছে। সহজ কিস্তিতে এবং কম সুদে ঋণের মাধ্যমে সাধারণ যুবক-যুবতীরাও এখন সহজেই মাহিন্দ্রার বৈদ্যুতিক গাড়ির মালিক হতে পারবেন।উদ্বোধন উপলক্ষে শোরুম প্রাঙ্গণে বিশেষ পূজার আয়োজন করা হয়। এরপর অতিথিদের উপস্থিতিতে ফিতা কেটে শোরুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। দিনভর এলাকার বহু মানুষ নতুন শোরুম ঘুরে দেখেন এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের একাংশের মতে, এই শোরুম শুধু একটি নতুন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং কালিয়াগঞ্জের অর্থনীতি, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বহু যুবকের স্বনির্ভর হওয়ার পথও খুলে দেবে এই উদ্যোগ।সব মিলিয়ে, গোদ্রীবাজারে মাহিন্দ্রা লাস্ট মাইল মোবিলিটির এই নতুন শোরুমের উদ্বোধন কালিয়াগঞ্জের শিল্প, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করল।