কালিয়াগঞ্জে ব্যাঙের ছাতার মতো বাড়ছে বিরিয়ানির দোকান! স্বাস্থ্যবিধি কি শুধুই কাগজে-কলমে? প্রশাসনের অভিযানে বাসি খাবার উদ্ধারে বাড়ছে আতঙ্ক

 

তন্ময় চক্রবর্তী :- কালিয়াগঞ্জ শহর ও শহরতলিতে গত কয়েক বছরে চোখে পড়ার মতো বেড়েছে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ফাস্টফুডের দোকান এবং বিশেষ করে বিরিয়ানির দোকানের সংখ্যা। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা থেকে শুরু করে অলিগলি—যত্রতত্র গজিয়ে উঠছে একের পর এক খাবারের দোকান। কম দামে সুস্বাদু খাবারের হাতছানিতে ক্রেতার ভিড়ও হচ্ছে যথেষ্ট।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই খাবার কতটা স্বাস্থ্যসম্মত? রান্নাঘরে আদৌ মানা হচ্ছে কি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি? ব্যবহৃত হচ্ছে কি পরিষ্কার জল ও কাঁচামাল? আর বিক্রি না হওয়া খাবার কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে?এই প্রশ্নগুলিই এখন ক্রমশ জোরালো হয়ে উঠছে কালিয়াগঞ্জের সাধারণ মানুষের মধ্যে।সম্প্রতি কালিয়াগঞ্জ শহরের বিভিন্ন হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও বিরিয়ানির দোকানে প্রশাসনের তরফে অভিযান চালানো হয়।

সেই অভিযানে কয়েকটি দোকান ও রেস্টুরেন্ট থেকে বাসি খাবার এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসতেই শহরজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা।

সাধারণ মানুষের একাংশের অভিযোগ, চোখ ধাঁধানো সাইনবোর্ড, সুন্দর সাজসজ্জা এবং কম দামের প্রচারের আড়ালে খাবারের গুণগত মান নিয়ে যথেষ্ট নজর দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।কালিয়াগঞ্জে বিরিয়ানি এখন বহু মানুষের পছন্দের খাবার।

পরিবার নিয়ে খেতে যাওয়া থেকে শুরু করে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা—শহরের বিভিন্ন বিরিয়ানি দোকানে প্রতিদিনই ভিড় দেখা যায়। কিন্তু খাবারের দোকানের সংখ্যা যত বাড়ছে, ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার বিষয়টি।সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—একটি দোকানে খাবার রান্নার পর তা কতক্ষণ রাখা হচ্ছে? অবিক্রীত খাবার কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে?

পরের দিন সেই খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে কি না? রান্নাঘর কতটা পরিষ্কার? কর্মীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করছেন কি না? খাবার তৈরির কাঁচামাল কতটা সতেজ?প্রশ্ন অনেক। আর প্রশাসনের অভিযানে বাসি ও নষ্ট খাবার উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসায় সেই প্রশ্নগুলিই আরও বড় হয়ে উঠেছে।শহরের সাধারণ মানুষের বক্তব্য, তাঁরা ভালো খাবার চান, কম দামে খাবার চান—কিন্তু স্বাস্থ্যের বিনিময়ে নয়।

একটি খাবারের দোকানে কয়েক টাকা কমে খাবার পাওয়া গেলেও সেই খাবার যদি মানসম্মত না হয়, তাহলে পরবর্তীতে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য আরও বেশি টাকা খরচ করতে হতে পারে।একজন ক্রেতার কথায়, “দোকান কত সুন্দর, খাবারের দাম কত কম—এসব দেখেই তো আমরা খেতে ঢুকি। কিন্তু খাবার তৈরির জায়গাটা কেমন, খাবার কতটা পুরনো, সেটা তো সাধারণ ক্রেতার পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি করলেই আমরা নিশ্চিন্তে খাবার খেতে পারব।”আরেক বাসিন্দার বক্তব্য, “বিরিয়ানির দোকান খুলতেই পারেন, ব্যবসা করতেই পারেন।

কিন্তু মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যবসা করা চলবে না। খাবারের মান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কঠোর নিয়ম মানতেই হবে।”সাধারণ মানুষের একাংশের দাবি, শহরে নতুন করে কোনও খাবারের দোকান খোলার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ব্যবসার অনুমতি বা লাইসেন্স থাকলেই দায় শেষ হয়ে যেতে পারে না।

দোকানের রান্নাঘর, খাবার সংরক্ষণের ব্যবস্থা, কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি, পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং খাবারের গুণগত মান—সবকিছু নিয়েই নিয়মিত নজরদারি থাকা দরকার।

প্রয়োজনে প্রশাসনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট খাদ্য নিরাপত্তা দফতরকেও নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি উঠছে।মানুষের বক্তব্য স্পষ্ট—বিরিয়ানির দোকান হোক, রেস্টুরেন্ট হোক কিংবা ছোট খাবারের দোকান—ব্যবসা করার অধিকার সবার রয়েছে। কিন্তু সেই ব্যবসা যেন মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি না করে।

কারণ, একটি দোকানের রান্নাঘরে সামান্য অসতর্কতা বা অবহেলা কখনও কখনও বহু মানুষের অসুস্থতার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

সম্প্রতি প্রশাসনের অভিযানে বাসি ও নষ্ট খাবার উদ্ধারের ঘটনাই যেন শহরের খাবারের দোকান মালিকদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।

ব্যবসা করতে হলে নিয়ম মানতেই হবে—এই বার্তাই এবার আরও জোরালোভাবে পৌঁছনো দরকার।