কালিয়াগঞ্জে প্রার্থী কে? তৃণমূলের অন্দরমহলে চর্চা, চায়ের দোকান থেকে বাজারঘাটে একটাই প্রশ্ন


তন্ময় চক্রবর্তী :-আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন এখন কার্যত দোরগোড়ায়। রাজনৈতিক লড়াইয়ের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে নেমে পড়েছে সবকটি দল। কে কতটা সংগঠিত, কার জনসংযোগ কতটা মজবুত—তা নিয়েই চলছে অঙ্ক কষা। এই আবহে কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা এলাকাজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কে হচ্ছেন? চায়ের দোকান, বাজারঘাট, গ্রামবাংলার পাড়া-মহল্লা—সব জায়গাতেই চলছে জোর আলোচনা। সাধারণ মানুষের মতে, এবার প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু দলীয় পরিচয় নয়, বরং ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, সুখে-দুঃখে পাশে থাকার রেকর্ড—সবকিছুই গুরুত্ব পাচ্ছে।

যাঁদের নাম ঘুরছে আলোচনায়

কালিয়াগঞ্জে তৃণমূলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে একাধিক নেতার নাম উঠে আসছে। জনচর্চায় যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছে, তাঁরা হলেন—

  • কালিয়াগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হিরন্ময় সরকার

  • প্রাক্তন বিধায়ক তপন দেব সিং

  • জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ নিতাই বৈশ্য

  • কালিয়াগঞ্জ শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুজিত সরকার

  • তৃণমূল নেতা পিনাকী সরকার

এই নামগুলি ঘিরে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে এই তালিকার মধ্যে যাঁর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায়, তিনি হলেন বর্তমান পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হিরন্ময় সরকার।

কেন হিরন্ময় সরকার এগিয়ে?

গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে কথা বলে উঠে আসছে একটি বিষয়—পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হিসেবে হিরন্ময় সরকারের নিয়মিত জনসংযোগ ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা তাঁকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের বক্তব্য,“পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি থাকায় তাঁকে প্রায়ই বিভিন্ন কাজে সামনে থেকে দেখা যায়। সমস্যা নিয়ে গেলে শোনা হয়।”অনেকেই তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও সহজলভ্যতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। গ্রামীণ এলাকায় যেমন তাঁর পরিচিতি রয়েছে, তেমনই শহর এলাকাতেও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে তাঁর ভূমিকা নজরে এসেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

‘স্বচ্ছতার ধারাবাহিকতা’—স্বামী-স্ত্রীর যুগলবন্দী

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসছে। হিরন্ময় সরকার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হওয়ার আগে তাঁর সহধর্মিণী দীপা সরকার পাঁচ বছর একই পদে থেকে কাজ করেছেন। সেই সময়ে স্বচ্ছতা ও কাজের ধারাবাহিকতা বজায় ছিল—এমনটাই মত অনেকের।
ফলে স্বামী-স্ত্রীর এই প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার যুগলবন্দী প্রভাব এবার তৃণমূলের প্রার্থী নির্বাচনে গুরুত্ব পেতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

বিজেপির শক্তি বনাম তৃণমূলের হিসেব

কালিয়াগঞ্জে বিজেপির সংগঠন তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী—এই বাস্তবতা অস্বীকার করছেন না সাধারণ মানুষ। সেই কারণেই এলাকার একাংশের মত,

“এখানে যদি তৃণমূল স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ও জনসংযোগে শক্ত নেতাকে প্রার্থী করে, তাহলে বিজেপিকে শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।”

এই প্রেক্ষাপটে হিরন্ময় সরকারের নামকে অনেকেই ‘স্ট্র্যাটেজিক পছন্দ’ হিসেবেই দেখছেন।

যদিও প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে এখনও দলীয়ভাবে কোনও ঘোষণা হয়নি, তবে কালিয়াগঞ্জের গ্রাম থেকে শহর—সব জায়গায় যে নামটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায়, তিনি নিঃসন্দেহে হিরন্ময় সরকার। শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের হাই কমান্ড কোন সমীকরণে সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ।