“আমরা অবহেলিত বিজেপি”—কালিয়াগঞ্জে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে রূপক রায়ের তোপ, সমর্থন নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত

তন্ময় চক্রবর্তী :- কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে রাজবংশী অধ্যুষিত এলাকায় বিজেপির অন্দরে ক্ষোভ–বিক্ষোভ নতুন মাত্রা পেল। একদা বিজেপির প্রার্থী রূপক রায় সরাসরি জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, “আমরা প্রকৃত রাজবংশী হয়েও আজ অবহেলিত বিজেপি কর্মীতে পরিণত হয়েছি। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

”রূপক রায়ের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির আদর্শ মেনে কাজ করা সত্ত্বেও বর্তমান নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে তাঁদের কোণঠাসা করে রাখছে। তাঁর কথায়, “দলের উচ্চ নেতৃত্ব যখন আমাদের কাজ করতে বলছে, তখন কালিয়াগঞ্জের কিছু নেতৃত্ব ষড়যন্ত্র করে আমাদের বসিয়ে রাখছে। এটা চক্রান্ত ছাড়া আর কিছু নয়।”তিনি আরও দাবি করেন, দিল্লিতে যারা দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তারা রাজবংশী সমাজের কথা তুলে ধরছেন না।

“আমাদের সমাজের সমস্যাগুলো সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত,” অভিযোগ তাঁর।নিজের রাজনৈতিক যাত্রার কথা তুলে ধরে রূপক রায় বলেন, তিনি অতীতে দল ছাড়লেও পরে আবার বিজেপির নীতি–আদর্শে বিশ্বাস রেখে দলে ফিরে আসেন এবং দলীয় প্রার্থীর হয়ে প্রচারেও অংশ নেন।

কিন্তু এবারের নির্বাচনে হঠাৎ করেই তাঁকে প্রচার থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। “কার নির্দেশে আমাকে প্রার্থীর সঙ্গে প্রচার থেকে দূরে রাখা হলো, সেটা জানতে চাই,” প্রশ্ন তোলেন তিনি।তিনি জানান, বিজেপির জন্য কাজ করতে গিয়ে তাঁকে তিন মাস জেলও খাটতে হয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এক চরম পরিস্থিতিতে, প্রাণের আশঙ্কার মধ্যে আমাকে মনোনয়ন জমা দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।

তবে এরপরও আমি দলের বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করিনি।”বর্তমান বিজেপি প্রার্থী উৎপল মহারাজ সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করে রূপক রায় বলেন, “তিনি ভালো মানুষ, আমরা তাঁকে মেনে নিয়েছি। কিন্তু যখন আমরা প্রার্থীকে সমর্থন করছি, তখন কেন আমাদের প্রচার থেকে সরিয়ে রাখা হলো, সেটাই বড় প্রশ্ন।”এদিকে, আগামীর সমর্থন নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “যদি আমাদের গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে আগামী ২ তারিখে আমরা সিদ্ধান্ত নেব—বিজেপি প্রার্থীকে সমর্থন করব কি না।”তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, “আমরা এখনও বিজেপিতেই আছি এবং বিজেপির ব্যানারেই সভা করছি। টিকিটের আশায় আমি রাজনীতি করি না। সাধারণ মানুষের দাবি–দাওয়া নিয়েই সবসময় কাজ করেছি।”কালিয়াগঞ্জে বিজেপির অন্দরের এই প্রকাশ্য ক্ষোভ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে। এখন দেখার, দলের উচ্চ নেতৃত্ব এই অভিযোগকে কীভাবে মোকাবিলা করে এবং এর প্রভাব আসন্ন নির্বাচনে কতটা পড়ে।