অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন বহু মহিলা, পৌর ভোটের আগে কালিয়াগঞ্জে বিজেপির অস্বস্তি বাড়াচ্ছে বঞ্চনার অভিযোগ
তন্ময় চক্রবর্তী , কালিয়াগঞ্জ: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতিমূলক প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার‘ ঘিরে কালিয়াগঞ্জে বাড়ছে অসন্তোষ। অভিযোগ, প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় বহু মহিলা তিন হাজার টাকা পেলেও এখনও বহু প্রকৃত আবেদনকারী সেই আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। ফলে যাঁরা সরকারের প্রতিশ্রুতির উপর ভরসা করে আবেদন করেছিলেন, তাঁদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা ক্রমশ বাড়ছে। আর এই ক্ষোভই আগামী পৌরসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিকভাবে বিজেপির জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।সরকার পরিবর্তনের আগে বিজেপি তাদের সংকল্পপত্রে ঘোষণা করেছিল, ক্ষমতায় এলে তৃণমূল সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ১,৫০০ টাকার পরিবর্তে মহিলাদের মাসে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতিকে সামনে রেখেই বহু মহিলা পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।
সরকার গঠনের পর অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় তিন হাজার টাকা করে দেওয়া শুরু হয়। প্রথম দফায় বহু মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছালেও, অভিযোগ, অনেকেই কোনও অর্থ পাননি। পরে দ্বিতীয় দফায়ও একই চিত্র দেখা যায়। অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হলেও, বহু মহিলা আবারও বঞ্চিত থেকে যান।যাঁরা এখনও টাকা পাননি, তাঁদের প্রশ্ন— “আমরা কী দোষ করেছি? আমাদের আবেদন কি বাতিল হয়েছে? নাকি কোনও নথির সমস্যা রয়েছে? যদি সমস্যা থাকে, তাহলে সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা জানানো হচ্ছে না কেন?”বঞ্চিত মহিলাদের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশ মেনেই তাঁরা সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদনপত্র পূরণ করেছেন। প্রয়োজনীয় নথিও জমা দিয়েছেন। তারপরও কেন তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা এল না, তার কোনও স্পষ্ট উত্তর তাঁরা পাচ্ছেন না।ক্ষুব্ধ একাধিক মহিলা বলেন, “সংকল্পপত্রে তো লেখা ছিল সব যোগ্য মহিলাকে তিন হাজার টাকা দেওয়া হবে। তাহলে কেউ পাচ্ছেন, কেউ পাচ্ছেন না কেন? যদি আমরা যোগ্য না হই, তাহলে সরকার সেটাও স্পষ্ট করে জানাক।“এই বিষয়টি নিয়ে কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিজেপি কমিশনারদের কাছেও জানতে চাওয়া হলে, তাঁদের অনেকেই বঞ্চনার নির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেননি বলে দাবি করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে যাঁরা এখনও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাননি, তাঁদের উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে। তাঁরা জানতে চাইছেন, ভবিষ্যতে তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন কি না, নাকি স্থায়ীভাবেই তালিকার বাইরে থেকে যাবেন।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে প্রকৃত উপভোক্তাদের একাংশ যদি দীর্ঘদিন বঞ্চিত থাকেন এবং তাঁদের সমস্যার দ্রুত সমাধান না হয়, তাহলে তার প্রভাব আগামী পৌরসভা নির্বাচনে পড়তে পারে। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে, তা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে পারে।তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনও ব্যাখ্যা বা সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসেনি। প্রকৃত কতজন আবেদনকারী এখনও টাকা পাননি, কী কারণে তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন এবং সেই সমস্যার সমাধানে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে— সেই উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন বহু মহিলা।এখন কালিয়াগঞ্জের বহু পরিবারের একটাই দাবি— যাঁরা প্রকৃত যোগ্য আবেদনকারী, তাঁদের বঞ্চনার কারণ দ্রুত জানিয়ে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের প্রাপ্য অর্থ তাঁদের হাতে পৌঁছে দিক সরকার। কারণ একটি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই হল প্রকৃত উপভোক্তার কাছে সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। সেই লক্ষ্য পূরণ না হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

